অবকাঠামোর জঞ্জালে বিমুখ পাখিরা

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৪১ এএম

সবুজ বনাঞ্চল ও জলাশয়সমৃদ্ধ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নান্দনিক পরিবেশে ঘনকুয়াশা ও হিমশীতল হাওয়া নিয়ে যথাসময়ে হাজির হয়েছে শীতকাল। তবে অন্যান্য বছরের মতো এবার এখনো দেখা মেলেনি অতিথি পাখির। অথচ কয়েক বছর আগেও শীতের শুরুতেই অতিথি পাখিদের কলতানে মুখরিত হয়ে উঠত পুরো ক্যাম্পাস। জলাশয়গুলোর বুকে শাপলার ফাঁকে ভেসে বেড়াত জলচর পাখির ঝাঁক। তবে গাছপালা কেটে ফেলা, বহুতল ভবন নির্মাণ, সময়মতো জলাশয়গুলো পরিষ্কার না করা, জলাশয়গুলো ঘাস চাষের জন্য ইজারা দেওয়া, জলাশয়ের পানিতে আবর্জনা মিশে দূষিত হওয়াসহ নানা দূষণে জর্জরিত ক্যাম্পাসে পাখিরা আর আগের মতো আসছে না।

এর সঙ্গে মানুষের বিরক্তিকর ও অসচেতনতামূলক আচরণের কারণেও পাখিরা ক্যাম্পাসবিমুখ হয়েছে। বিষয়টি লক্ষ রেখেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০০ সাল থেকে প্রতি বছর পাখি মেলা আয়োজিত হয়। শুধু ২০১১ ও ২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখি মেলা হয়নি। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব এককভাবে মেলার আয়োজন শুরু করলেও ২০০৪ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ পাখি মেলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়।

‘পাখপাখালি দেশের রত্ন, আসুন সবাই করি যত্ন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ বছরও ‘পাখি মেলা-২০২৫’ আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান।

মেলার সহআয়োজক হিসেবে ছিল ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, আরণ্যক ফাউন্ডেশন, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতি, আইইউসিএন এবং বাংলাদেশ বন বিভাগ।

দিনব্যাপী আয়োজিত মেলায় নানান অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এরপর পাখিবিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয়। সকাল পৌনে ৯টায় শিশু-কিশোরদের জন্য পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা হয়। এ ছাড়া টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলার দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, অডিও ও ভিডিওর মাধ্যমে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি চেনা প্রতিযোগিতা এবং সবার জন্য উন্মুক্ত পাখিবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মেলা আয়োজনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশের সংরক্ষণেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত বলে মনে করেন পাখি মেলায় অংশগ্রহণকারীরা।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো আয়োজনের মধ্যে অন্যতম পাখি মেলা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখি মেলা ও প্রজাপতি মেলায় ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একত্রিত হয়। উপাচার্য মেলার আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত