রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধসহ ৭ দাবি স্থানীয়দের

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৪৩ এএম

নতুন করে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের আওতায় না এনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ফেরত দান, অনুপ্রবেশ বন্ধ ও ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ রোধ, দ্রুত প্রত্যাবাসনসহ সাত দফা দাবিতে কক্সবাজারের উখিয়ায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয়রা।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে শহীদ এ টি এম জাফর আলম আরাকান সড়কের উখিয়া উপজেলার পালংখালী স্টেশনে ‘অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি-পালংখালী’র উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

আয়োজনকারী সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনসহ স্থানীয় কয়েকশ মানুষ মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।

স্থানীয়দের উত্থাপিত দাবিগুলো হলো আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন, অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্তে নিরাপত্তা বলয় জোরদার, অবৈধভাবে ২০২৪ সালে অনুপ্রবেশ করা লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের এফডিএমএন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে (বায়োমেট্রিক) তাদের পুশব্যাকের জন্য কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে, স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চাকরিসহ ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় স্থানীয়দের প্রাধান্য (ন্যূনতম ৫০%) নিশ্চিত, কাঁটাতারের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ ও ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের বাসা ভাড়া বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং ক্যাম্পের চাকরির নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আরআরআরসি প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।

অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি-পালংখালীর সভাপতি প্রকৌশলী রবিউল হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সরওয়ার জাহান চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হওয়ায় স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। চুরি-ডাকাতি, অপহরণ বাণিজ্য, খুন-খারাবিসহ নানা অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলছে। প্রায় আট বছর হতে চললেও একজন রোহিঙ্গাকেও তাদের দেশে ফেরত পাঠানো যায়নি। উল্টো গত কয়েক মাসে আরাকানে অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আরও লাখের কাছাকাছি নতুন রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উখিয়া, টেকনাফসহ স্থানীয়দের জীবনযাত্রার পাশাপাশি নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী রবিউল হোসেন বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে স্থানীয়দের উত্থাপিত সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। আর দাবি বাস্তবায়ন না হলে সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম মোক্তার আহমদ, জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম, শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, শিক্ষক মোক্তার আহমদ ও স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী নেতা আবদুর জব্বারসহ স্থানীয় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত