গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন প্রধান কামাল আহমেদ

‘উসকানিদাতা’ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তদন্তের পক্ষে কমিশন

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:৫৮ পিএম

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ‘উসকানিদাতা’সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন বলে জানিয়েছেন কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ। রোববার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে কামাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা কোনো তদন্ত সংস্থা না। আমরা কোনো অপরাধের তদন্ত করতে পারব না। তবে আমরা এটা বলতে পারি উসকানিদাতা সাংবাদিকদের ব্যাপারে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাদের (উসকানি দাতা) শাস্তি দেওয়া হবে। এটা ফৌজদারি অপরাধ। বিশেষ করে হত্যার জন্য যদি উসকানি হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে যে বৈষম্যগুলো রাজনৈতিকভাবে করা হয়েছে, সে বৈষম্যের শিকার যারা হয়েছেন, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি হিসেবে সাংবাদিক হিসেবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন উঠেছে। এটা আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।’

রাজনৈতিক দলবাজি সাংবাদিকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মন্তব্য করে কামাল আহমেদ বলেন, ‘রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার পেশার জন্য। কারণ দলীয় রাজনীতির আদর্শ থেকে খবর সেন্সর ও বিকৃত করা সাংবাদিকতাকে প্রভাবিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সাংবাদিকতার কোনো নীতিমালা নেই, কথাটি ঠিক না। সাংবাদিকতার অনেকগুলো নীতিমালা আছে। আবার আমরা যদি বলি সম্পাদকীয় নীতিমালা নেই। সেটা সত্য কথা। সেটার জন্য আমরা সম্পাদক পরিষদকে বলেছি। আসলেই একটি জাতীয় নীতিমালা থাকা দরকার। আমরা আশা করছি, সম্পাদক পরিষদ সে উদ্যোগটি নেবেন।’

সংবাদপত্র সংক্রান্ত নীতিমালা থাকলেও সেটা কার্যকর হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পত্র-পত্রিকার ক্ষেত্রে অনেক নীতিমালা আছে। সমস্যা হচ্ছে সরকার  সে নীতিমালাগুলো মানেনি। সরকার মানেনি বলতে সরকারের কর্মকর্তারা রাজনৈতিক প্রভাবে অথবা অন্য কোনো কারণে সেগুলো মানেননি। পত্রিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে  যোগ্যতার প্রশ্ন, পেশাদার সাংবাদিকের সম্পাদক হওয়ার প্রশ্ন এগুলো কিন্তু নীতিমালায় আছে।’ 

এ সময় গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন, শামসুল হক জাহিদ, আখতার হোসেন খান ও বেগম কামরুন্নেছা হাসান উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত