দেশের তৃতীয় আঞ্চলিক গবাদি পশুর কৃত্রিম প্রজনন গবেষণাগার অবস্থিত চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায়। কৃত্রিম প্রজনন ও ভ্রুণ স্থানান্তর (এআইইটি) প্রকল্পের আওতায় হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিমে সরকারি দুগ্ধ ও গবাদিজাত উন্নয়ন খামার সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে ৯ একর জমির ওপর এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থাপন করা হয়েছে বিশালাকার এ প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৭ সালে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়ে ২০২৩ সালের জুন মাসে সম্পন্ন হয় এই প্রকল্পের কার্যক্রম।
জানা যায়, দেশীয় রেড কাউ (আরসিসি) জাতের গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন ও সংরক্ষণের জন্য ভালো মানের ষাঁড় হতে সিমেন উৎপাদন করে তৃণমূল পর্যায়ে খামারিদের দেশি গাভীকে প্রজনন করানোর উদ্দেশ্যে হাটহাজারীতে স্থাপিত হয়েছে তৃতীয় আঞ্চলিক কৃত্রিম প্রজনন গবেষণাগার কাম বুল স্টেশন। যা চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম স্টেশন। বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় উন্নত জাত ধরে রাখতেই এ উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যেখানে রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আধুনিক কার্যালয়। রয়েছে সিমেন সংগ্রহের পর যাবতীয় কার্যাদি সম্পন্ন করার ল্যাবসহ নানান যন্ত্রপাতি। বাছাইকৃত ষাঁড় রক্ষণাবেক্ষণে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল দশটি শেড। প্রতি শেডে থাকবে দশটি করে ষাঁড়। সিমেন উৎপাদন বা সংগ্রহের যাবতীয় কার্যাদি সম্পন্ন করা হবে এসব শেডে। জাতীয় প্রজনন নীতিমালা অনুসারে দেশীয় জাতের (আরসিসি) গাভীকে একই জাতের ষাঁড়ের বীজ দিয়ে প্রজনন করানো বাধ্যবাধকতা রয়েছে এ প্রকল্পে। তাই প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন সরকারি দুগ্ধ ও গবাদিজাত উন্নয়ন খামার হতে যাছাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে বাছাইকৃত রেড কাউ (আরসিসি) ষাঁড় নিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
আরও জানা যায়, দেশীয় জাতের আরসিসি জাতের গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন ও সংরক্ষণের জন্য স্থাপন করা প্রতিষ্ঠানে প্রকল্পের কাজ সম্পন্নের পর পর অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে যাছাই-বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে সরকারি দুগ্ধ ও গবাদিজাত উন্নয়ন খামার হতে নয়টি ষাঁড় নেওয়া হয়েছে। বাছাইকৃত ষাঁড়দের নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে। খালি জায়গায় ষাঁড়ের পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহে চাষ করা হচ্ছে উন্নতমানের ঘাস, ভুট্টা। বর্তমানে একটি শেডে নয়টি ষাঁড় সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। তাদের দেখভাল করছেন কয়েকজন কর্মচারী। বাকি নয়টি শেড খালি পড়ে আছে। শেডের কাছে আছে খড় রাখার গুদাম। সাজানো গোছানো পৃথক পৃথক কক্ষ। ল্যাব কক্ষে বাক্সবন্দি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। বাক্সবন্দি অন্তত দুই কোটি টাকার যন্ত্রপাতি প্রকল্প শেষ হওয়ার আগে আনা হয়েছে। তবে এসব যন্ত্রপাতি কার্যক্রম পরিচালনা হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের। প্রথম পর্যায়ের যেসব যন্ত্রপাতি লাগবে তা প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার দেড় বছর পার হলেও এখনও আসেনি। ফলে যে উদ্দেশ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয় তা থমকে আছে।
এসব যন্ত্রপাতি পাঠাতে গত বছরের ১৩ নভেম্বর লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতনকে জানিয়েছেন বলেও জানান ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ডা. নাবিল ফারাবি। তবে কবে নাগাদ আসতে পারে তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। ১ জন উপ পরিচালক, ১ জন সায়েন্টিফিক অফিসার, ১ জন ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ১ জন অফিস সহকারীর পদ থাকলেও সবগুলি পদ শূন্য।
ইতিমধ্যে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১১ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া ১১ জন কর্মচারীর মধ্যে ১ জন পার্বত্য চট্টগ্রামের কাউখালী উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তবে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হলে, ২৫/৩০ জনের জনবলের প্রয়োজন হবে। অফিস সহকারী, গাড়িচালক, দাড়োয়ানসহ বিভিন্ন পদের লোক নিয়োগ দেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা বলেন, অন্যান্য উপজেলা কিংবা জেলায় কোনও প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগ দিতে স্থানীয়দের প্রাধান্য দেওয়া হয়। কিন্তু হাটহাজারী এর ব্যতিক্রম। উপজেলায় শত শত শিক্ষিত বেকার রয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতানুযায়ী নিয়োগ দিলে বেকারের সংখ্যা কমে যাবে।
কৃত্রিম প্রজনন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. শাহজামান খাঁন তুহিন জানান, প্রাথমিক যন্ত্রপাতির বিষয়ে প্রকল্পের সঙ্গে যারা জড়িত তারাই বলতে পারবেন। সামনে নতুন করে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। পূর্বে স্থানীয়দের কেন বাদ দেওয়া হয়েছে বা কিভাবে কি করা হয়েছে সেটা জানা নেই।
বিদেশে বাংলাদেশ নিয়ে প্রচার করতে হবে বেপজাকে: প্রধান উপদেষ্টা
শীতে তুলসীর রস কেন খাবেন?