লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হবেন খালেদা জিয়া, কী এর বিশেষত্ব

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:২৭ পিএম

যুক্তরাজ্যের প্রায় শত বছরের পুরোনো ‘লন্ডন ক্লিনিকে’ ভর্তি হতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ মঙ্গলবার তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য দেশ ছাড়বেন। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি  যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হবেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, এই লন্ডন ক্লিনিকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি চিকিৎসা নেন অনেক রাষ্ট্রপ্রধান, রাজনীতিক, অভিনেতা ও ধনাঢ্য ব্যক্তি। শত বছরের পুরোনো বেসরকারি এই হাসপাতালের অবস্থান সেন্ট্রাল লন্ডনের ডেভনশায়ার প্লেস ও মেরিলিবন সড়কে। এটি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বেসরকারি হাসপাতাল হিসেবেও পরিচতি।

নিজেদের চিকিৎসাসেবার বিশেষত্ব সম্পর্কে চিকিৎসাকেন্দ্রটি বলছে, ‘লন্ডন ক্লিনিকের ব্রেস্ট (স্তন), ইউরোলজি, গাইনোকলজি (স্ত্রীরোগবিদ্যা) ও চর্মরোগ চিকিৎসায় সুনাম রয়েছে। ‘আমরা স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টেশন ও সেলুলার থেরাপির মান নিয়েও অনেক সংস্থার স্বীকৃতি পেয়েছি।’

হাসপাতালের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘আমাদের ডাচেস অব ডেভনশায়ার উইংকে ‘চমৎকার’ ক্যান্সার সেন্টার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ম্যাকমিলান কোয়ালিটি এনভায়রনমেন্ট মার্ক (এমকিউইএম)।’ এর বাইরে রোগীদের দ্রুত সময়ে স্বাস্থ্যপরীক্ষার সেবা দিয়ে থাকে হাসপাতালটি।

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, হৃদ্‌রোগ, ফুসফুস, আর্থরাইটিস, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।তাকে লিভার প্রতিস্থাপনের জন্যই বিদেশে নেওয়ার কথা বলে আসছিলেন বিএনপি নেতারা। লন্ডন ক্লিনিক তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, তাদের হাসপাতালে লিভার প্রতিস্থাপন করা হয় না। সেখানে খালেদা জিয়ার কী ধরনের চিকিৎসা হবে, তা বিএনপি নেতারা সুনির্দিষ্ট করে জানাননি।

খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘লন্ডন ক্লিনিক বলে একটা পুরোনো ঐতিহ্যবাহী হসপিটাল আছে, সেখানে উনাকে (খালেদা জিয়া) ভর্তি করা হবে। ‘ম্যাডামের নানা শারীরিক জটিলতা রয়েছে, যা আমরা বিভিন্ন সময়ে বলেছি। উনার লিভারের জটিলতাটা অর্থাৎ লিভার সিরোসিস পরবর্তী কম্পেনসেটরি লিভার ডিজিজের জন্য ‘টিপস’ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, টিপসের কিছু টেকনিক্যাল অ্যাসপেক্ট আছে, অ্যাডজাস্টমেন্টের বিষয় আছে। হার্টে স্টেন্টিং করার পর চেক করে আবার সেটার জন্য রি-স্টেন্টিং করে অথবা চেক করে দেখা হয় যে স্টেন্টিংটা ভালোভাবে কাজ করছে কি না; এই জিনিসগুলো তো আমরা করতে পারি নাই’। মঙ্গলবার রাত ১০টায় কাতারের আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশ রওনা হবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

লন্ডন ক্লিনিকের রোগী ছিলেন যারা

এ হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা নেন ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স অব ওয়েলস উইলিয়ামের স্ত্রী প্রিন্সেস অব ওয়েলস ক্যাথরিন। একই হাসপাতালে চিকিৎসা নেন রাজা তৃতীয় চার্লস। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, তার স্বামী ফিলিপ অব এডিনবরা একাধিকবার এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। অ্যানটনি ইডেন ও ক্লিমেন্ট অ্যাটলিসহ অনেক ব্রিটিশ সরকারপ্রধানের চিকিৎসাও হয়েছে যুক্তরাজ্যের এই হাসপাতালে। লন্ডন ক্লিনিকের রোগীর তালিকায় নাম লেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ও ব্রিটিশ-আমেরিকান অভিনেত্রী লিজ টেইলরও। এ হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।

লন্ডন ক্লিনিকের যাত্রা শুরু ১৯৩২ সালে। তৎকালীন ডিউক ও ডাচেস অব ইয়র্ক এটি উদ্বোধন করেন। ১৯৯১ সালে এর এমআরআই ইউনিট উদ্বোধন করেন প্রিন্সেস মার্গারেট। ২০১০ সালে ক্যান্সার ইউনিট উদ্বোধন করেন প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান পর্যবেক্ষণ করে ‘কেয়ার কোয়ালিটি কমিশন। ব্রিটিশ স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে কাজ করা এই কমিশনের ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডন ক্লিনিকের বহির্বিভাগে প্রতিবছর গড়ে এক লাখ ১০ হাজার মানুষ চিকিৎসা নেয়। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয় ২৩ হাজার রোগী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত