যাদের দোয়া অবশ্যই কবুল হয়

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০১:২৯ এএম

মুমিনের দোয়া কখনো বিফলে যায় না। হয় দ্রুত কবুল হয় অথবা বিলম্বে কবুল হয়। আর বিলম্বে কবুল না হলেও হতাশার কিছু নেই। কেননা সেই দোয়ার প্রতিফল নেক আমল হিসেবে পরকালে অবশ্যই পাওয়া যাবে। এছাড়া এমন তিন ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের দোয়া মহান আল্লাহ খুব দ্রুত কবুল করেন। ইমাম বুখারি (রহ.)-এর সংকলিত গ্রন্থ আদাবুল মুফরাদে আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসে নবী করিম (সা.) তিন ব্যক্তির দোয়া কবুলের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হলো।

মজলুমের দোয়া : মজলুম বা নিপীড়িত ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না। তার দোয়া আর আল্লাহর মধ্যে কোনো অন্তরাল থাকে না। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) যখন মুয়াজ (রা.)-কে ইয়েমেনে পাঠান তখন তাকে বলেন, মজলুমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কেননা তার ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মধ্যে কোনো পর্দা থাকে না। (সহিহ বুখারি ২৪৪৮) তাছাড়া একাধিক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে জুলুমের ভয়াবহতার সুস্পষ্ট বর্ণনা। হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, তোমরা অত্যাচার করা থেকে বিরত থাকো। কেননা অত্যাচার কেয়ামতের দিন গভীর অন্ধকাররূপে আসবে। তোমারা কৃপণতা পরিহার করো। কেননা এই কৃপণতা তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে এবং তাদের পরস্পরের রক্তপাত করতে, তাদের প্রতি হারামসমূহকে হালালরূপে গ্রহণ করতে উদ্যত করেছে। (আদাবুল মুফরাদ ৪৯০)

মুসাফিরের দোয়া : দৈনন্দিন জীবনে মানুষ নানা উদ্দেশে সফর করে। জীবিকা, উচ্চশিক্ষা ইত্যাদি। তবে যাই হোক সফরে রয়েছে কষ্ট-ক্লেশ, অনাহার আর অনিদ্রা। এ জন্য সফর শেষে দ্রুত আবাসস্থলে ফিরে আসার নির্দেশ রয়েছে হাদিসে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, সফর আজাবের অংশবিশেষ। তা তোমাদের যথাসময় পানাহার ও নিদ্রায় ব্যঘাত ঘটায়। কাজেই সবাই যেন নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অবিলম্বে আপন পরিজনের কাছে ফিরে যায়। (সহিহ বুখারি ১৮০৪) সফরের নানা কষ্টের দিকে লক্ষ করে দ্বীনি বিধিবিধানেও এসেছে সহজতা। চার রাকাত নামাজ দুই রাকাত, কুরবানি না করার অনুমতি ইত্যাদি। পাশাপাশি রয়েছে মুসাফিরের দোয়া কবুলের বিশেষ সুসংবাদও। তাই সফর অবস্থায় বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।

সন্তানের জন্য বাবার দোয়া : বাবা হলেন পৃথিবীতে আল্লাহ প্রদত্ত এক অমূল্য সম্পদ। বাবা ছাড়া পৃথিবী শূন্যতায় ভরপুর। সন্তানের জন্য বাবা হলেন বৃষ্টিতে ছাতা আর রোদে বৃক্ষের ছায়ার মতো। মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমার রব আদেশ করেছেন যে, তোমরা তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল ২৩) মানুষ শেষ বয়সে শিশুসুলভ আচরণ করে। অনেক সময় সন্তানরা তাদের আচরণে বিরক্তি প্রকাশ করে। তাই আয়াতের পরবর্তী অংশে মা-বাবার এমন আচরণে বিরক্তি প্রকাশ না করে সদাচারী হওয়ার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমার বর্তমানে তাদের একজন বা উভয়েই বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের ‘উফ’ (অসন্তোষ প্রকাশক শব্দ) পর্যন্ত বলবে না এবং তাদের ধমক দেবে না, বরং তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল ২৩) যদি কোনো সন্তান কোরআনের এ নির্দেশ মেনে চলে তাহলে সে অবশ্যই পিতার নেক দোয়া পাবে। আর হাদিসের ভাষ্যমতে সন্তানের জন্য পিতার দোয়া কবুল হয়ই। সেই সন্তানের চেয়ে সৌভাগ্যবান আর কে হতে পারে যে পিতার দোয়া পেল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত