আরবি সপ্তম মাসের নাম রজব। এ মাস মুমিনের দুয়ারে রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। নবী করিম (সা.) রজব মাস সম্পর্কে বলেন, ‘বারো মাসে বছর। তার মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। তিনটি ধারাবাহিক জিলকদ, জিলহজ ও মহররম। আর চতুর্থটি রজব। যা জমাদিউস সানি ও শাবান মাসের মাঝের মাস।’ (সহিহ বুখারি) এ মাসে নির্ধারিত কোনো আমল নেই। তবে রাসুল (সা.) রজব মাসে রমজানের প্রস্তুতিস্বরূপ সব আমলই বাড়িয়ে দিতেন। অন্যান্য আমলের পাশাপাশি বেশি বেশি দোয়া করতেন।
দোয়া : রজবের এক তারিখ থেকে নবী (সা.) নিজের হায়াত রমজান পর্যন্ত বৃদ্ধির জন্য বেশি বেশি দোয়া করতেন। আনাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রজব মাস শুরু হতো, নবী করিম (সা.) তখন এ দোয়াটি পড়তেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসকে বরকতময় করুন। রমজান মাস পর্যন্ত আমাদের হায়াত বৃদ্ধি করে দিন। (আল-মুজামুল আওসাত)
আমল : রজব মাসে নির্ধারিত কোনো রোজা নেই। তবে নফল রোজা যেকোনো তারিখে রাখা যেতে পারে। আইয়ামে বিজের রোজা রাখা যেতে পারে। প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী রজব মাসের ২৭ তারিখ রাসুল (সা.)-এর মেরাজের ঘটনা ঘটেছিল। দিনটি নিঃসন্দেহে মর্যাদাপূর্ণ। তবে এই দিনকে কেন্দ্র করে কোনো নির্দিষ্ট আমলের কথা কোরআন, হাদিস ও সাহাবিদের থেকে প্রমাণিত নয়। তাই এই দিনে রোজা রেখে হাজার রোজার সওয়াব পাওয়ার আশা করা ঠিক নয়। কারণ এ ব্যাপারে কোনো গ্রহণযোগ্য বর্ণনা পাওয়া যায় না। ইবনুল জাওজি, হাফেজ জাহাবিসহ অনেক মুহাদ্দিস এই ফজিলতকে বানোয়াট বলেছেন। (কিতাবুল মাওজুয়াত ২/২০৮)
আমরা অন্যান্য মাসের মতো রজব মাসেও ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতের পাশাপাশি নফল ইবাদত করব এবং রমজানের প্রস্তুতিস্বরূপ আমলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেব। মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করব, যেন তিনি আমাদের রমজান মাসের ফজিলত ও বরকত হাসিলের তাওফিক দান করেন।