লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের কাঁটাতার নির্মাণ, বিজিবির শক্ত প্রতিরোধ

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৫, ০১:৪৩ এএম

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) শূন্যরেখা বরাবর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালিয়েছে। বিজিবির সাহসী ভূমিকার কারণে বিএসএফকে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়ে পিছু হটতে হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ওই সীমান্তের প্রধান পিলার (ডিএএমপি) ৮/৪১ নম্বর পিলার লাগোয়া ভারতে অভ্যান্তরে শূন্য রেখা বরাবর সীমান্তে কাটা তারের বেড়া স্থাপনের নির্মাণ শ্রমিক দিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এতে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী শূন্য রেখা হতে দেড়শ গজের মধ্যে উভয় দেশের কোনো স্থাপনা নির্মাণ করার নিয়ম না থাকলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সেটি না মেনে উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া সীমান্তের ৮/৪১ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের লাগোয়া অংশে শূন্য রেখা (নো ম্যান্স ল্যান্ড) বরাবর আকস্মিকভাবে ভারতের রাণীনগর ৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অরুণ ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যদের সহায়তায় কিছু ভারতীয় নাগরিক দিয়ে অবৈধভাবে কাঁটা তারের বেড়ার সাথে লোহার খুঁটি স্থাপন কাজ শুরু করেন। 
 
সংবাদ পেয়েই তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পানবাড়ি বিজিবি ক্যাম্পের বিজিবি টহল দল দ্রুত পৌঁছে নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করে। বিজিবির বাধা উপেক্ষা করে বিএসএফ সদস্যরা কাজ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করলে বিজিবি টহল দল তীব্র প্রতিবাদ জানায় । এরই এক পর্যায়ে বিজিবি টহল দলের তীব্র প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ সদস্যরা কাজ বন্ধ রেখে সীমান্তের ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে চলে যান। দহগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

৫১ বিজিবির পানবাড়ি কোম্পানী কমান্ডার জামিল আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিজিবি টহল দল সার্বক্ষণিকভাবে সীমান্তে অবস্থান ও নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, বিএসএফ শূন্যরেখায় বেআইনিভাবে বেড়া নির্মাণ করছে। আমরা আতঙ্কে আছি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমাদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শূন্যরেখা বরাবর প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। বিজিবির বাধার ফলে কাজ বন্ধ হলেও বিএসএফ সীমান্তে তাদের সদস্য সংখ্যা বাড়িয়েছে।

৫১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সেলিম আলদীন বলেন, সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। আমরা সীমান্ত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রস্তুত আছি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত