তেজ কমেছে দাবানলের

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৩:৫৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে দুটি বড় দাবানল অবশেষে দমকলকর্মীরা নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু করেছেন। কারণ কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড বাতাস অবশেষে প্রশমিত হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে রয়টার্স। গত মঙ্গলবার থেকে এ পর্যন্ত ছয়টি দাবানলে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির আশপাশের এলাকা একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে। আগুনে এ পর্যন্ত অন্তত ১১ জনের মৃত্যু এবং ১০ হাজারেরও বেশি বাড়ি ও স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। দাবানল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর দমকলকর্মীরা বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাবেন। তখন মৃতের সংখ্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হাজার হাজার মানুষ হঠাৎ গৃহহীন হয়ে পড়ায় এবং ঘন কালো ধোঁয়ার কারণে কর্মকর্তারা জনস্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন। দমকলকর্মীরা শহরের পশ্চিম প্রান্তে প্যালিসেডস ফায়ার এবং বিস্তৃত মহানগরীর পূর্বদিকে পাহাড়ের পাদদেশে ইটনে দাবানল নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। তীব্র বাতাসের কারণে গত কয়েক দিন শত শত দমকলকর্মীর চেষ্টাতেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। অবশেষে প্যালিসেইডসের আগুন ৮ শতাংশ এবং ইটনের আগুন ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এর আগে, ক্যালিফোর্নিয়ার দমকল বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবারের আগে প্যালিসেইডস ও ইটনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার মাত্রা ছিল শূন্য শতাংশ। যদিও এরই মধ্যে, ভয়াবহ দাবানলে এই দুই অঞ্চলের প্রায় ৩৪ হাজার একর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। রয়টার্স লিখেছে, সাতটি প্রতিবেশী রাজ্য, ফেডারেল সরকার এবং কানাডা ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ফায়ার চিফ অ্যান্থনি ম্যারোন দাবানল নিয়ন্ত্রণে জনবল বাড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সবাই এগিয়ে আসায় ভয়াবহতা এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে। এনডব্লিউএসের আবহাওয়াবিদ অ্যালিসন সান্তোরেল্লি বলেন, এখন দমকা হাওয়া নেই। তবে কম আর্দ্রতা এবং শুষ্ক গাছপালার কারণে পরিস্থিতি বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছেন তিনি। পূর্বাভাসকারীরা ধারণা করছেন, সোমবার আরও একবার জরুরি সতর্কতা জারি করা হবে। 

ভয়ংকর এ দাবানলের কারণ হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা আনা বাতাসের কথা বলা হচ্ছে। মরুভূমির পরিবেশ বা শুষ্ক অঞ্চল থেকে ঘণ্টায় ৯৭ কিলোমিটার গতিতে এই বাতাস বয়ে যায় উপকূলের দিকে। এ বাতাসকে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার বড় কারণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, সান্তা আনার এই বাতাসই লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানল উসকে দিচ্ছে, যা বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে, বাস্তুচ্যুত করছে হাজারো মানুষকে। শুষ্ক আর উষ্ণ সান্তা আনার বাতাস বেশ শক্তিশালী। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা, উটাহ ও ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের শুকনো এলাকা থেকে এটি উড়ে আসে।

ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির পরিবেশ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অ্যালেক্স হল বলছেন, শীতের মাসগুলোয় এ বাতাস দেখা যায়, যে সময়টায় উত্তর গোলার্ধে মধ্য অক্ষাংশ জুড়ে আবহাওয়ায় নিম্ন ও উচ্চ চাপ বেশি থাকে।

কিছু ক্ষেত্রে উচ্চ চাপের পরিবেশটুকু শুষ্ক, ‘গ্রেট বেসিন’ নামে পরিচিত পার্বত্যঘেরা অঞ্চলের মধ্যে আটকে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অনন্য ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কারণেই নেভাডা, উটাহর অংশ ও অন্য কাউন্টিগুলোর কিছু অংশ জুড়ে গ্রেট বেসিন অঞ্চল। এই অঞ্চলে যখন আর বেশি উচ্চ চাপ সৃষ্টি হয়, তখন সেটি গতি পেয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকার নিম্নচাপ থাকা অঞ্চলের দিকে ধেয়ে এই উষ্ণ বাতাস বইতে থাকে, যাকে বলা হচ্ছে সান্তা আনা বাতাস। সান্তা আনার বায়ু স্বাভাবিকভাবেই উষ্ণ। কারণ সেটি ‘গ্রেট বেসিনে’ মরুভূমির মতো পরিবেশে সৃষ্টি হয়।

হল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে সান্তা আনা বাতাসকে প্রভাবিত করছে, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত নন। একটা বিষয় হলো উষ্ণ তাপমাত্রা আরও বেশি আগুনের সৃষ্টি করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত