সহকর্মীকে মুক্ত করতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার পোশাকশ্রমিক

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৪৩ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে সহকর্মীকে মুক্ত করতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক পোশাককর্মী। গতকাল শনিবার ওই নারী মামলা করার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। ওই পোশাককর্মীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য স্বজনদের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

আসামিরা হলেন শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া দক্ষিণ খণ্ড এলাকার আশরাফুল ইসলাম (২৯), উপজেলার কাওরাইদ (মোড়লপাড়া) এলাকার সাগর (২৫), কেওয়া দক্ষিণ খণ্ড (গারোপাড়া) এলাকার ইয়াসিন (২৪), নেত্রকোণা সদর উপজেলার হাটখোলা বাজার এলাকার মনিরুল ইসলাম নিরব (১৮) এবং তাদের সহযোগী অজ্ঞাত তিনজন।

গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার কাওরাইদ (মোড়লপাড়া) এলাকার সাগর (২৫), শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া দক্ষিণ খণ্ড এলাকার আশরাফুল ইসলাম (২৯) এবং নেত্রকোণা সদর উপজেলার হাটখোলা বাজার এলাকার মনিরুল ইসলাম নিরব (১৮)। নিরব কেওয়া পূর্ব খণ্ড এলাকার নজরুল ইসলামের বাড়ির ভাড়াটিয়া।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পোশাকশ্রমিক নাজমুল হক (২৭) টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার কোনাবাড়ী গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার মাধখলা এলাকার মাহমুদল্লাহর বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় ইশরাক স্পিনিং মিলে চাকরি করেন।

বাদী ২৩ বছর বয়সী ওই নারী এজাহারে আরও বলেন, নাজমুল হক ও তিনি একই কারখানায় চাকরি করেন। বুধবার বাদী বাসায় ছিলেন। ওইদিন বিকেল ৩টায় নাজমুল ফোন দিয়ে তার সমস্যার কথা জানিয়ে ফখরউদ্দিন কারখানার মোড়ে বটগাছের নিচে যেতে বলেন। তার ফোন পেয়ে যেখানে যাওয়া মাত্রই আসামি সাগর বাদীর পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর সাগর বাদীকে ফখরউদ্দিন প্রিন্ট কারখানার গেটসংলগ্ন স্থানীয় নজরুলের বাসায় নিয়ে যান। ওই বাসায় গিয়ে বাদী দেখেন, সহকর্মী নাজমুলকে আসামিরা মারধর করছে। পরে তিনি মারধর করতে নিষেধ করে নাজমুলকে ছেড়ে দিতে বলেন। কিন্তু যুবকরা বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবি করা টাকা দিতে রাজি না হলে ওই নারীকে পাশের কক্ষে নিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে আসামি আশরাফুল ও সাগর জোর করে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

তারা বেরিয়ে গেলে অজ্ঞাত তিন আসামি ঘরে ঢুকে আবারও ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।

বাদী বলেন, পরে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে আমার মোবাইল ফোন রেখে মনিরুল ইসলাম নিরব একটি অটোরিকশা ভাড়া করে দিলে আমি বাসায় ফিরি। ঘটনাটি জানিয়ে স্বামী ও বাড়ির লোকজনের সঙ্গে পরামর্শ করে শনিবার থানায় মামলা করি।

পোশাকশ্রমিক নাজমুল হক বলেন, বুধবার বিকেল ৪টায় বেতনের টাকা তুলে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। সহকর্মী ইয়াছিন তাকে ফোন করে ফখরউদ্দিন মোড়ে যেতে বলেন।

নাজমুলের অভিযোগ, সেখানে গেলে ইয়াছিন ও তার সহযোগীরা আমাকে একটি বাড়িতে নিয়ে পিটিয়ে নির্যাতন করে ২ লাখ টাকা দাবি করে। আমার সঙ্গে থাকা বেতনের সাড়ে ১৪ হাজার টাকা নিয়ে যায় তারা। পরে আরও টাকার জন্য মারধর করলে আমি দুই ব্যক্তির কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা তাদের এনে দিই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত