ভারতের কুম্ভ মেলায় অংশ নিতে পারেন ৪০ কোটি মানুষ

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:২৩ পিএম

ভারতের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় মেলার নাম ‘কুম্ভমেলা’। ৪৫ দিনের এই মহাকুম্ভমেলা শুরু হবে আগামীকাল সোমবার। শেষ হবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি। এবার প্রায় ৪০ কোটি মানুষ সেখানে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজের ত্রিবেণি সঙ্গমে স্নান করবেন এসব মানুষ। এবারের মেলাকে বলা হচ্ছে ‘মহাকুম্ভমেলা’। এই মহাকুম্ভমেলা ১২টি পূর্ণকুম্ভমেলা শেষে ১৪৪ বছর পার করার পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই মিলনস্থলে হাজির হয়েছেন লাখো মানুষ। আসছেন নাগা সন্ন্যাসী থেকে দেশ–বিদেশের সাধুসন্তরাও।

কুম্ভ মেলা চলাকালে এই ত্রিবেণী সঙ্গমের পবিত্র পানিতে ডুব দিলে সব পাপ ধুয়ে যায় বলে বিশ্বাস ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের। এটি জন্ম মৃত্যুর চক্র থেকে পরিত্রাণ নিয়ে আসে বলেও বিশ্বাস তাদের।

এই উৎসবের মূলে আছে একটি হিন্দু ঐতিহ্য। তাতে বলা হয়েছে, দেবতা বিষ্ণু অসুরদের সঙ্গে লড়াই করে অমৃত ভর্তি একটি কলস নিয়ে এসেছিলেন, ওই অমৃত পান করলে অমরত্ব লাভ করা যায়। এই কলস ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য অমরলোকে বিষ্ণু ১২ দিন ধরে লড়াই করেছিলেন, তখন কলস থেকে চার ফোটা অমৃত পৃথিবীতে ছিটকে পড়ে।

অমৃতের ওই ফোটাগুলো পড়েছিল প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, উজ্জয়নী ও নাশিকে। তাই এই চার শহরে তিন বছর পর পর ঘুরে ঘুরে কুম্ভ মেলার আয়োজন করা হয়। এভাবে প্রতি ১২ বছর পর যে মেলা হয় তাতে ‘মহা’ শব্দটি যোগ হয়ে তা ‘মহা কুম্ভ মেলা’য় পরিণত হয়। এই মহা কুম্ভ মেলায়ই সবচেয়ে বেশি লোক সমাগম হয়।

মেলা আগত লোকজনের জন্য ওই দুই নদীর তীরবর্তী চার হাজার হেক্টর বিস্তৃত খোলা জায়গাকে অস্থায়ী একটি শহরে পরিণত করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার তাঁবু, এক লাখ ৪৫ হাজার বিশ্রামাগার, তিন হাজার রান্নাঘর ও ৯৯টি গাড়ির রাখার স্থান।

মেলা উপলক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ চার লাখ ৫০ হাজার নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করেছে। ১৩ জানুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কুম্ভ মেলা একই সময়ে শহরের এক লাখ অ্যাপার্টমেন্টের চেয়েও বেশি বিদ্যুৎ খরচ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই মেলা উপলক্ষ্যে ভারতীয় রেলওয়ে প্রয়াগরাজে যাওয়ার নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি আরও ৯৮টি বিশেষ ট্রেন চালু করেছে। এসব ট্রেন উৎসব চলাকালে অতিরিক্ত ৩৩০০ ট্রিপ দেবে বলে হিসাব করা হয়েছে।

উত্তর প্রদেশের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, প্রায় ৪০ হাজার পুলিশ সদস্য এবং সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নজরদারির এক জাল তৈরি করা হয়েছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) সহায়তা নিয়ে মেলার মানব সমুদ্রকে সুরক্ষিত রাখা হবে এবং তাদের চলাচল নিরাপদ করা হবে।

জরুরি সাড়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে ১২৫টি সড়ক অ্যাম্বুলেন্স, সাতটি জল অ্যাম্বুলেন্স ও তিনটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হবে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের মেলার জন্য উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকার ছয় হাজার ৪০০ কোটি রুপি (৭৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার) বরাদ্দ করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত