২০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোনো তাড়নাই যেন দেখা গেল না সিলেট স্ট্রাইকার্সের। বিশেষ করে অ্যারন জোন্স ও জর্জ মানসির ব্যাটিং দেখে যে কেউই ধন্দে পড়ে যেতে পারেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মতো গতিময় ফরম্যাটে তারা যেন রান তোলার তাগিদ পুরোপুরি ভুলে গিয়েছিলেন। ঐ দুই ব্যাটারের পাঁচ ওভারের এক অদ্ভুত স্থবিরতায় সিলেটের ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়। ম্যাচ শেষে জাকের আলি অকপটে বললেন, ‘ওদের মাথায় কী চলছিল, ওরাই জানে।’
সোমবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ২০৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩০ রানে হেরে যায় সিলেট। এতে সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচেও জয়বঞ্চিত হলো স্ট্রাইকার্স। চট্টগ্রাম পর্বে যাওয়ার আগে চিটাগংয়ের আত্মবিশ্বাস বাড়ল আরও, কারণ চার ম্যাচে তাদের জয় এখন তিনটি।
সিলেটের ইনিংস শুরু হয় ধাক্কা দিয়ে। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই পল স্টার্লিংকে ফেরান চিটাগংয়ের বাঁহাতি স্পিনার নাবিল সামাদ। এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন জাকির হাসান। মাত্র ১৯ বলে ২৫ রান করে আউট হন তিনি, তবে সঙ্গী হিসেবে পাননি কাউকেই। রনি তালুকদার ফেরেন ৯ বলে ৭ রান করে।
পাওয়ার প্লে শেষে সিলেটের রান ছিল ৩ উইকেটে ৪৬। এখান থেকে অ্যারন জোন্স ও জর্জ মানসির দায়িত্ব ছিল উইকেট ধরে রেখে রানের চাকা সচল রাখা। কিন্তু বিপরীত দৃশ্য দেখা গেল মাঠে।
সপ্তম থেকে একাদশ ওভার এই পাঁচ ওভারেই মূলত ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায় সিলেটের। ক্রিজে ছিলেন জোন্স ও মানসি। কিন্তু ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল তারা যেন ২০৪ রানের লক্ষ্য, এমনকি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের চেতনাও ভুলে গেছেন। ওই পাঁচ ওভারে মাত্র একটি বাউন্ডারি আসে, সেটিও অনিয়মিত স্পিনার শামীম হোসেনের বলে।
জোন্স ১৮ বলে করেন ১৫ রান। আর মানসি তো ওই সময় একেবারেই নিস্তরঙ্গ ছিলেন। একাদশ ওভারে জোন্স ফিরে গেলে মানসির রান ছিল ১৯ বলে মাত্র ১১। অথচ এরপর তিনি হঠাৎই জ্বলে ওঠেন। তার শেষ ১৪ বলে ৩৯ রান এলো চারটি ছক্কা ও তিনটি বাউন্ডারিতে। কিন্তু ততক্ষণে প্রয়োজনীয় রান রেট এতটাই বেড়ে যায় যে ম্যাচে আর উত্তেজনা ফিরল না।
জাকের আলি শেষদিকে ২৩ বলে অপরাজিত ৪৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেললেও ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করে চিটাগং তোলে ২০৩ রান। ফর্মে থাকা উসমান খান ৩৫ বলে ৫৫ রান করে দলকে ভালো শুরু এনে দেন। এরপর গ্রাহাম ক্লার্কের ঝোড়ো ৩৩ বলে ৬০ রানের ইনিংসে শক্ত ভিত পায় চিটাগং। শেষ দিকে হায়দার আলির ১৮ বলে অপরাজিত ৪২ রানে স্কোর ছাড়ায় ২০০।
ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে জানতে চাইলে জোন্স-মানসিকে নিয়ে বিস্ময়টা গোপন রাখেননি এই ক্রিকেটার, ‘সংবাদ সম্মেলনে আসতে আসতেও বলছিলাম, মানসি ও জোন্সের মাথায় কী চলছিল ওরাই জানে। আমরাও আলোচনা করছিলাম, একটু কম (রান) হয়ে গেছে। ওই জায়গায় যদি ১০-১৫ রান বেশি আসত, তাহলে তো প্রায় চলেই এসেছিলাম...।’
রংপুরের সাতে সাত
বিপিএলে সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলেন খুশদিল শাহ। পাকিস্তানি এই ব্যাটসম্যানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ১৮৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় রংপুর। খুশদিল ৩৫ বলে ৭৩ রান করে দলের ইনিংসকে ভিত্তি দিয়েছেন, ৬ ছক্কা ও ৪টি বাউন্ডারি ছিল তার ব্যাট থেকে। নাসুম আহমেদের এক ওভারে চার ছক্কা মারেন খুশদিল, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ দিকে ইফতিখার ৩৬ বলে ৪৩ রানে বড় পুঁজি পায় রংপুর। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৭.১ ওভারে চতুর্থ উইকেট হারায় খুলনা দলীয় ১৬৫ রানে। শেষ ১৭ বলে তাদের দরকার ছিল মাত্র ২২ রান। ইনিংসের শেষ ওভারে খুলনার দরকার ছিল ১২ রান। সাইফউদ্দিনের করা ওভারে তিন রান তুলতে খুলনা হারায় ৩ উইকেট। অর্থাৎ ইনিংসের শেষ ১৭ বলে ৫ উইকেট হারিয়ে খুলনা তোলে মাত্র ১৩ রান! খুলনা করে ৯ উইকেটে ১৭৮। তাতে রংপুর এবারের আসরে নিজেদের সপ্তম জয় পায় ৮ রানে।
