‘ফুটবল না খেলে’ বার্সার কাছে হার রিয়ালের

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৫৭ এএম

স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে জেদ্দায় মুখোমুখি হয়েছিল বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। রিপোর্টের শিরোনাম পড়ে পাঠকের মনে হতে পারে, রিয়াল যদি ফুটবল না খেলে থাকে তবে বার্সেলোনার কাছে হারল কীভাবে! রবিবার রাতে ফাইনাল ম্যাচের ফলাফল যে বার্সেলোনা ৫-২ রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচে হারের পর রিয়ালের কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আমরা ফুটবল খেলিনি।’ তার কথার সূত্র ধরে বলতে হয়, বার্সেলোনা ফুটবলটা মাঠে দারুণ খেলেছে বলেই পাঁচ গোল দিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসদের।

এ নিয়ে টানা দুই এল ক্লাসিকোতে রিয়ালকে চার বা তার বেশি গোল দিল হান্স ফ্লিকের দল। গত অক্টোবরে মৌসুমের প্রথম ক্লাসিকোয় লা লিগায় রিয়ালের মাঠে ৪-০ তে জিতেছিল বার্সেলোনা। ১৯৬৩ সালে রিয়ালের (৫-১ ও ৪-০) পর প্রথমবার ক্লাসিকোয় দেখা গেল এমন কিছু।

আগের এল ক্লাসিকোর ব্যর্থতা ভুলতে নেমে এবার শুরুতে গোল করে এগিয়েও গিয়েছিল রিয়াল। তবে সেই ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধেই চার গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বার্সেলোনা। আগের ক্লাসিকোয় বার্সেলোনার চার গোল করেছিলেন আক্রমণভাগের তিন তারকা রবার্ট লেভানডফস্কি, রাফিনহা ও লামিন ইয়ামাল। এবারও জালের দেখা পান এই তিন জন। জোড়া গোল করেছেন রাফিনহা, একটি করে গোল লেভানডফস্কি, ইয়ামাল ও আলেহান্দ্রো বাল্দের।

কিং আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে নিজেদের প্রথম আক্রমণ থেকে এমবাপ্পে গোল করলে এগিয়ে যায় রিয়াল। ম্যাচের সময় তখন পাঁচ মিনিট। ক্যারিয়ারের প্রথম ক্লাসিকোয় বার্সেলোনার ডিফেন্সে আটবার অফসাইডের ফাঁদে পড়েছিলেন এমবাপ্পে। এবার অবশ্য তেমন কিছু হয়নি। বার্সেলোনা সমতায় ফেরে ২২ মিনিটে। লেভার থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে এক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে গোল করেন ইয়ামাল। ৩৬ মিনিটে সফল স্পট-কিকে বার্সেলোনাকে এগিয়ে নেন লেভানডফস্কি। রিয়ালের মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা বক্সে গাভিকে ফাউল করলে, ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টি দেন রেফারি। চলতি মৌসুমে বার্সার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৭ ম্যাচে ২৬ গোল করলেন লেভানডফস্কি। তিন মিনিট পর ডান দিক থেকে কুন্দের ক্রসে হেডে বল জালে পাঠান রাফিনহা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ান বাল্দে।

৪৭ মিনিটে রদ্রিগোর একটি শট পোস্টে লাগে। পরের মিনিটেই ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রাফিনহা। এই মৌসুমে বার্সার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৭ ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের গোল হলো ১৯টি। ৫৬ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয় কাতালানরা। বক্সের বাইরে এসে এমবাপ্পেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন পোলিশ গোলকিপার সেজনি। ভিএআরের সাহায্যে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। বাধ্য হয়েই হান্স ফ্লিক গাভিকে তুলে নিয়ে গোলকিপার পেনাকে নামান। একই সঙ্গে ইয়ামালের বদলি হিসেবে নামেন দানি ওলমো। ওই ফ্রি-কিকেই ব্যবধান কমান রদ্রিগো।

ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা আমাদের সব সমর্থকের মতোই হতাশ। কখনো আমরা জিতব আবার কখনো হার থেকে আমাদের শিখতে হবে। আমাদের সামনে তাকাতে হবে। আমরা খুব বাজেভাবে ডিফেন্ড করেছি। তারা খুব সহজেই গোল পেয়ে গেছে। প্রচল চাপের মুখে আমরা ভালোভাবে রক্ষণ সামলাতে পারিনি। বিরতির সময় আমি বলেছি যে, আমাদের ফুটবল খেলার চেষ্টা করা উচিত। কারণ, প্রথমার্ধে আমরা ফুটবলই খেলিনি। লং বল খেলেছি, কিন্তু সেটা আমাদের পরিকল্পনা ছিল না। আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছি, সেভাবে খেলতে পারিনি।’

এই মৌসুমে বার্সেলোনার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম ফাইনালেই শিরোপার স্বাদ পেলেন জার্মান কোচ ফ্লিক। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি ফ্লিক বলেন, ‘আমি সত্যিই অনেক গর্বিত। দলকে নিয়ে গর্বিত, সব স্টাফ, এই ক্লাব, সমর্থক, সবাইকে নিয়ে। অবিশ্বাস্য একটা ম্যাচ হলো।’

বার্সা ও রিয়াল দুই দলেরই এবার ফের নজর দিতে হবে লিগে। স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনালের দিনে লা লিগায় আতলেতিকো মাদ্রিদ ১-০ গোলে হারিয়েছে ওসাসুনাকে। তাতে লিগে ১৯ রাউন্ড শেষে ৪৪ পয়েন্টে শীর্ষে উঠে এসেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। সমান ম্যাচে এক পয়েন্ট পিছিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। আর বার্সেলোনা ৩৮ পয়েন্টে আছে তিনে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত