বেশি দামে টিকিট কিনে ফল শূন্য!

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:২০ এএম

বহুল আলোচিত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হয়নি এক দশকেও। এরমধ্যে ওই প্রকল্পের বিআরটি লেন দিয়ে বিআরটিসির ১৩টি এসি বাস গাজীপুরের শিববাড়ি থেকে ঢাকার গুলিস্তান পর্যন্ত চলাচল শুরু করে। কিন্তু শিববাড়ি থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিআরটি লেনে অন্য গাড়ি ঢোকায় সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন বিআরটিসির এসি বাসের যাত্রীরা। তারা বলছেন, বিআরটি প্রকল্পের লেনে প্রতিনিয়ত ‘লোকাল যানবাহন’ ঢুকে পড়ায় যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে। অধিক মূল্যে টিকিট কিনেও কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

গাজীপুর শহরের শিববাড়ি এলাকা বিআরটি বাস টার্মিনালের কাউন্টারে সরেজমিনে দেখা গেছে, যাত্রীরা টিকিট কেটে বাসে অবস্থান নিচ্ছেন। সে সময় নাজমুল হক নামে এক যাত্রী বলেন, টঙ্গীর উত্তর থেকে গাজীপুর-চৌরাস্তার কয়েকটি স্থানে বিআরটি বাসের লেনের ফাঁকা রয়েছে। এ স্থান দিয়ে মাঝেমধ্যেই বাস-ট্রাকসহ ভারী যানবাহন বিআরটি লেনে ঢুকে পড়ে।

এতে যানজট সৃষ্টি হয় এবং ওই লেনে বিআরটিসির বাস আটকা পড়ে। কিছু কিছু এলাকার ওই ফাঁকা স্থান ব্যবহার করে অন্যান্য যানবাহন ইউটার্ন করতে গিয়ে বিআরটি বাসের পথ আটকে দেয়। এতে করে এ সার্ভিসের বাস স্বাভাবিক গতি হারায়।

বিআরটি পরিবহনের বাসচালক মো. জামাল উদ্দিন জানান, টঙ্গী কলেজ গেট থেকে বড়বাড়ি পর্যন্ত বিআরটি লেনটি একেবারে খোলা। বিআরটি লেনটিতে গাড়ির চাপ কম আছে মনে করে লেনের খোলা স্থান দিয়ে অন্য গাড়ি ঢুকে পড়ে।

এক পর্যায়ে বিআরটি লেনে পাবলিক গাড়ির সংখ্যা এত বেশি হয়ে যায় যে অন্য লেনের গাড়ি থেকে এ লেনে বেশি হয়। এতে যানজট সৃষ্টি হয় এবং বিআরটিসির বাসগুলো স্বাভাবিকভাবে আটকা পড়ে যায়। বোর্ড বাজার থেকে চৌরাস্তা যেতেই কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকার বিআরটি সার্ভিসের কাউন্টারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, এখানে বিআরটি লেন ক্লিয়ার থাকে না। অন্য বাস এসে তাদের কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলে। তাদের বললেও কথা শুনে না, ট্রাফিক পুলিশও ঠিকমতো কাজ করে না। এসব কারণে বাসে কাক্সিক্ষত যাত্রী হয় না। 

গাজীপুরের শিববাড়ি কাউন্টারে কর্তব্যরত কাউন্টারম্যান মো. ইব্রাহিম শিকদার জানান, তাদের বাসগুলোর আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে ৫১টি। সকাল পৌনে ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ৩০ মিনিট পর পর এবং সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ৪৫ মিনিট পর পর গাড়ি ছেড়ে যায়। শিববাড়ি থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত চারটি এবং গুলিস্তান পর্যন্ত ৫টি কাউন্টারে যাত্রী ওঠানামা করে। প্রতি কাউন্টারে ১/২ মিনিট করে যাত্রাবিরতি দেওয়া হয়।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার অশোক কুমার পাল জানান, বিআরটি প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজ শেষ না করেই বিআরটি বাস সার্ভিস চালু করায় কিছু সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বিআরটি লেনে শুধু কিছু বিআরটিসি বাস সচল রাখতে গিয়ে অন্য লেনগুলোতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এর থেকে সৃষ্টি হয় যানজট। এতে ট্রাফিক পুলিশকে পরিবহন-চালক ও যাত্রীদের খারাপ ভাষার গালিও শুনতে হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের জনবল কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। এ পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে চালকদেরও সচেতন হওয়া উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত