আগুনের কারণ জানে না ফায়ার সার্ভিস

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩৯ এএম

রাজধানীর হাজারীবাগে ফিনিক্স লেদার কমপ্লেক্স ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ভবনটির পঞ্চম তলার নুরজাহান স্যান্ডেল ফ্যাক্টরিতে প্রথম আগুন লাগে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে।

গত শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে হাজারীবাগ কাঁচাবাজার সংলগ্ন ফিনিক্স ট্যানারি লিমিটেড ভবনে এ আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিটের চেষ্টায় প্রায় ৫ ঘণ্টা পর আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়। সাত তলা ভবনটির ৫, ৬ ও ৭ তলার দক্ষিণ পাশের অন্তত দশটি কারখানা, গুদাম, খাবারের প্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে। এ ছাড়াও প্রায় ১০০ কোটি টাকা সমমূল্যের মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়।

এদিকে গতকাল শনিবার ঘটনাস্থলে গেলে ব্যবসায়ী পরিচয় দেওয়া কিছু লোক ভবনে প্রবেশ করতে বাধা দেন। এছাড়াও ওই ভবনের অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতিসহ অন্যান্য বিষয়ে জানতে চাইলে অধিকাংশ ব্যবসায়ী এড়িয়ে যান। পঞ্চম তলায় ৩ হাজার স্কয়ার ফিটের শিশির সুজ অ্যান্ড এক্সেসরিজ কারখানার মালিক মো. সানি রায়হান জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তার কারখানার ছয়জন ফ্লোরে ছিলেন। তবে তারাও অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।

ভবনটির পঞ্চম তলায় অবস্থিত নুরজাহান স্যান্ডেল ফ্যাক্টরি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শী মো. সোহেল। তিনি জানান, দুপুরে জুমার নামাজের পর ভবনের পঞ্চম তলায় অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় গোডাউন থেকে আগুনের ফুলকি দেখতে পান। কারেন্টের মেইন লাইন বন্ধ করতে গিয়ে তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে আহত হন।

সোহেল বলেন, ভবনের পঞ্চম তলায় নুরজাহান স্যান্ডেল ফ্যাক্টরির কারখানায় স্যান্ডেলের আঠা, সলিউশন এবং অন্যান্য দাহ্য পদার্থ মজুদ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে নুরজাহান স্যান্ডেল ফ্যাক্টরি, শিশির সুজ অ্যান্ড এক্সেসরিজ, জাহাঙ্গীর ফ্রেম ঘর পুরোটা পুড়ে ছাই। এছাড়াও খাস ফুডের গোডাউন আংশিক পুড়েছে।

এদিন বিকেলে বিসিকের চার সদস্যের একটি তদন্ত দলকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে দেখা যায়। কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নুরুজ্জামান, মো. আবু বকর সিদ্দিক, সাভার বিসিক চামড়া শিল্প নগরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহীনুর রহমান এবং সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন শেষে ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানান।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তদন্ত করে বুঝা যাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটুকু হয়েছে। তবে, প্রাথমিকভাবে আগুন কোথা থেকে বা কীভাবে লেগেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক গোলযোগ, সিগারেটের আগুন বা অন্য কোনো কারণে আগুন লাগতে পারে। 

তিনি বলেন, ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার এ ভবন কর্র্তৃপক্ষকে অগ্নি-ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এতে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। আমরা একাধিকবার চেষ্টা করেছি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

জানা গেছে, ভবনটি এক সময় ফিনিক্স লেদার কমপ্লেক্স লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কারখানা ছিল। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরিয়ে নেওয়া হলে ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। পরে জুতা, পোশাকসহ বিভিন্ন কারখানা ও গুদামের পাশাপাশি খাবারসহ প্রায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত