ভারত থেকে বেসরকারিভাবে চাল আমদানির সময় ২৭ দিন বাড়ানো হয়েছে। চাল আমদানির জন্য বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাল আমদানি করতে পারবেন। এদিকে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চালের আমদানি বাড়িয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। এতে পণ্যটির সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে শুরু করেছ দাম।
ভারত থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে গত দুই মাসে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ৯ হাজার ৬৬২ টন চাল আমদানি হলেও বেনাপোলসহ যশোরের বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। স্থানীয় বাজারে চালের দাম তো কমেনি বরং কেজিপ্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেসরকারিভাবে নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ও আতপ চাল আমদানির জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে বরাদ্দ করা চাল আমদানির লক্ষ্যে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার সময়সীমা চাল আমদানির স্বার্থে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্দেশক্রমে বাড়ানো হলো।
সরকার ভারত থেকে চাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর গত বছরের ১৭ নভেম্বর থেকে এ বছরের ১৬ জানুয়ারি দুই মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৯ হাজার ৬৬২ টন চাল আমদানি হয়েছে। সরকার গত ১৭ নভেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুমোদন দেয় তিন লাখ ৯২ হাজার টন চাল আমদানির। এ সময়ের মধ্যে আশানুরূপ চাল আমদানি না হওয়ায় সময় বৃদ্ধি করে চলতি মাসের ১৫ জানুয়ারি করে। আবারও এক মাস সময় বৃদ্ধি করেছে সরকার।
এদিকে দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চালের আমদানি বাড়িয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। এতে করে পণ্যটির সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে শুরু করেছ দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চালের দাম কমেছে ২ থেকে ৩ টাকা করে। চালের দাম কমার কারণে খুশি বন্দরে আসা পাইকাররা। তবে ব্যাংকে ডলারের দাম কিছুটা কমায় চালের দাম কমেছে সেই সঙ্গে ক্রেতা সংকটের কারণে কম দামে চাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন আমদানিকারকরা।
হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর থেকেই বন্দর দিয়ে ক্রমান্বয়ে চালের আমদানি বাড়ছিল। গড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক করে চাল আমদানি হয়েছে এমনকি এক দিনে ১০০ ট্রাক চাল আমদানি ছাড়িয়েছিল। কিন্তু মাঝে ডলারের দাম কিছুটা বাড়ার কারণে কিছু দিন চালের আমদানি কিছুটা কমতে শুরু করেছিল। যার কারণে দেশের বাজারে পণ্যটি দামের ওপর প্রভাব পড়েছিল। বর্তমানে ডলারের দাম কমতে শুরু করেছ যার কারণে বন্দর দিয়ে চালের আমদানি আবারও বেড়েছে। সেই সঙ্গে চালের আমদানি বাড়ায় পণ্যটির সরবরাহ কমায় দাম কমতির দিকে রয়েছে।
