এক ছাতার নিচে আসবে সব ফুটবল একাডেমি

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:১৫ পিএম

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে কাজের অভিজ্ঞতা একেবারেই নতুন। তবে দেশের ফুটবল উন্নয়নে প্রান্তিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। যশোরের বিখ্যাত শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা তিনি। প্রতিভাবান ফুটবলারকে সঠিক পরিচর্যার মধ্য দিয়ে গড়ে তুলে যে একাডেমি পরিচিতি পেয়েছে দেশ জুড়ে। জাহেদী এবারই প্রথম বাফুফেতে এসেছেন, নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে হয়েছে সহসভাপতি এবং তাকে দেওয়া হয়েছে তার পছন্দের কাজটাই। ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পাওয়া এই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী চাইছেন সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা ফুটবল একাডেমিগুলো এই সুতোয়া গাঁথতে। যাতে করে ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়নে কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে পারে একাডেমিগুলো। এ ছাড়া ফিফা-এএফসি নির্ভরতা কমিয়ে এনে বাফুফেকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলেছেন জাহেদী। 

সোমবার ডেভেলপমেন্ট কমিটির সভা শেষে অনেক কথাই বলেছেন নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। এর মধ্যে উঠে এসেছে বাফুফের এলিট একাডেমির সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, সারা দেশের একাডেমিগুলো আরও কার্যকর করে গড়ে তোলার মতো বিষয়। তবে ফুটবলকে সত্যিকারে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন বিপুল অর্থ। এই জায়গাটাতে জাহেদীর ভাবনা আর ১০ জনের চেয়ে আলাদা। সবাই যখন ফিফা-এএফসির বরাদ্দর দিকে তাকিয়ে, তখন জাহেদী চোখ রাখতে চান স্বাবলম্বী হওয়ার দিকে, ‘আর্থিক বিষয়টা আজ বিশদভাবে আলোচনা হয়েছে সভায় এবং ফেডারেশন থেকে একটা বাজেট পেশ করা হয়েছে, যা ৩ ফেব্রæয়ারি পরের সভায় আমরা চ‚ড়ান্ত করব। মার্কেটিং কমিটির প্রধানকে অনুরোধ করব স্পন্সরগুলোর সঙ্গে যাতে কথা বলেন। স্পন্সর আনতেই হবে। নইলে মার্কেটিং কমিটির পাশাপাশি আমাদেরও ব্যক্তিগত ও সমন্বিতভাবে চেষ্টা করতে হবে। ফিফা ফান্ড এলেই হবে, না এলেও হবে না। এটা থেকে আমরা বের হতে যাচ্ছি। ফিফা বা এএফসির ফান্ডকে আমরা একটা বাড়তি সাপোর্ট হিসেবে দেখতে চাই। ফেডারেশনের নিজস্ব উপার্জনের পথ বের করতে হবে।’

ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রথম সভায় এলিট একাডেমির সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ব্যাপক সংস্কার কাজ হাতে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি সাব-কমিটি করে দেওয়া হয়েছে, যাতে এলিট একাডেমির বর্তমান অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে পারে। তবে যে উদ্যোগটা জাহেদী মনে করছেন অনেক বেশি কার্যকর হবে, সেটা হলো দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গড়ে ওঠা একাডেমিগুলো নেটওয়ার্কিংয়ের আওতায় এনে এক হয়ে কাজ করতে পারলে, ‘বিকেএসপি, এলিট একাডেমিসহ আমাদের দেশে যেসব ভালো একাডেমি রয়েছে, যাদের ভালো সুযোগ-সুবিধা আছে, তাদের নিয়ে একটি নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে একীভ‚ত করার চেষ্টা করব, যাতে একে অন্যের সহযোগিতায় আমরা তরুণ প্রজন্মের ফুটবলারদের আরও ভালো সুযোগ-সুবিধা দিতে পারি। একাডেমিগুলোর মধ্যে সমন্বয়টা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় সে ব্যাপারটা আমরা খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আশা করছি ভবিষ্যতে একাডেমির এই সমন্বয়টা দেশের ফুটবল উন্নয়নে ভালো ভূমিকা রাখবে।’

এ ছাড়া চলতি বছর এএফসি ও সাফ পর্যায়ে তিনটি বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টের জন্য শক্তিশালী দল গঠনের কথাও বলেছেন জাহেদী। এলিট একাডেমিতে কোচ হিসেবে অভিজ্ঞ গোলাম রব্বানী ছোটনের নিয়োগের বিষয়টি চ‚ড়ান্ত হয়েছে সভায়। এ ছাড়া ‘বয়স চুরির’ সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে কঠোর হওয়ার কথাও তিনি বলেছেন জোর দিয়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত