ইসলামে বন্ধুত্বের অবস্থান

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:০৬ এএম

মানুষ একাকী চলতে পারে না। একাকী জীবন মানুষকে দুর্বিষহ করে তুলে। আমাদের মানসিক বিকাশের জন্য একে অপরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও আলাপচারিতার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর বিষয়টি ক্লান্তিময় জীবনে কিছুটা স্বস্তির সুবাতাস বয়ে আনে। জীবনে কোনো সংকটময় মুহূর্তে যখন আমরা পথহারা পথিকের মতো ছুটতে থাকি, তখনো নানা সমস্যা নিয়ে কাছের বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করি। তাই ইসলামে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কাউকে চেনা যায়, তার বন্ধু কেমন, সেটার ওপর নির্ভর করে। যদি তার বন্ধুরা ভালো হয়, তাহলে ধারণা করা যায় তিনিও তাদের মতোই ভালো। আর যদি তার বন্ধুরা মাদক সেবনকারী বা অশ্লীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকে, তাহলে ধারণা করা যায়, তার মধ্যেও এসব দোষ থাকতে পারে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মহানবী (সা.) বন্ধুত্বের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হচ্ছে, আতর দোকানি ও কামারের হাপরের মতো। আতর দোকানি তোমাকে খালি হাতে ফেরাবে না। হয় তুমি তার কাছ থেকে ক্রয় করবে কিংবা তার কাছ থেকে সুঘ্রাণ পাবে। আর কামারের হাপর হয় তোমার বাড়ি জ্বালিয়ে দেবে, না হয় তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে, আর না হলে দুর্গন্ধ পাবে। (সহিহ বুখারি)

তাই কার সঙ্গে আমরা সময় ব্যয় করছি তা ভাবা প্রয়োজন। অবশ্যই ভালো বন্ধু নির্বাচন করতে হবে। অন্যথায় একদিন সেই বন্ধুর জন্যই আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তখন মানুষ বলবে, কেন অমুককে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছিলাম? কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘মানুষ হতাশ হয়ে বলবে, হায় আমার দুর্ভোগ! আমি যদি অমুক ব্যক্তিকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতাম।’ (সুরা ফুরকান ২৮) অসৎ সঙ্গের পরিণতি যে কী ভয়ংকর, এ আয়াত থেকে তা সুস্পষ্ট। কিন্তু আমরা কোনো কিছুতেই ভ্রুক্ষেপ করি না।

বর্তমান সমাজব্যবস্থায় যাদের আমরা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে থাকি, তারা অনেকেই আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে। কিন্তু এমন একজনকে যদি আমরা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে পারি, যে বন্ধুর কারণে আমাদের কোনো ভয় বা হতাশা গ্রাস করতে পারবে না, তাহলে কতই না ভালো হয়। এই ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মনে রেখো, আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই, তারা পেরেশানও হবে না।’ (সুরা ইউনুস ৬২) আল্লাহতায়ালা কেয়ামতের ভয়াবহ দিনে সাত ব্যক্তিকে তার আরশের ছায়া দান করবেন। তখন ওই ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। তাদের মধ্যে দুই ব্যক্তি হলেন তারা, যারা আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব স্থাপন করে এবং আল্লাহর জন্যই বন্ধুত্ব ত্যাগ করে। (সহিহ বুখারি ৬৬০) বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে এ ধরনের সীমালঙ্ঘন না করা এবং কারও বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শত্রুতা পোষণ না করা কাম্য। দুটিই ইসলামে অপছন্দনীয় কাজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত