টানা আট ম্যাচে যে দলটা হারেনি, তার হারকে অঘটন হিসেবে না মানার কোনো উপায় নেই। রংপুর রাইডার্সের বেলায়ও এ কথাটি প্রযোজ্য। টানা আট ম্যাচ জিতে আসা দলটির হারের তাৎপর্য বেড়ে গিয়েছে প্রতিপক্ষের নামের বিচারে। পারিশ্রমিক থেকে শুরু করে নেতৃত্ব বদলসহ বিপিএলের এবারের আসরের নানা নেতিবাচক কারণে বারবার সংবাদের শিরোনাম হওয়া দুর্বার রাজশাহী ২৪ রানে হারিয়েছে রংপুরকে। ইয়াসির আলী ও সাব্বির হোসেনের তাণ্ডবে আগে ব্যাটিং করে ৯ উইকেটে ১৭০ রান করেছিল রাজশাহী। ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে তাসকিন আহমেদ-রায়ান বার্লদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৪৬ রানে মুখ থুবড়ে পড়ে রংপুর। রাজশাহীর এই জয়ে আসরে প্লে-অফ পর্বের সমীকরণ জমে উঠেছে আরও।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রাজশাহী একাদশে মাত্র দুজন বিদেশি নিয়ে আগে ব্যাটিংয়ে নামে। মোহাম্মদ হারিস ফিরে গেলেও পাওয়ারপ্লের সময়টুকুতে তাণ্ডব চালান সাব্বির। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৬২ রান তোলে রাজশাহী। ১৯ বলে ৩৯ রান করে দলের ৭৬ রানের মাথায় আউট হন সাব্বির। এরপর গোল্ডেন ডাক মারেন রায়ান বার্ল। এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে ক্রিজে এসেই তাণ্ডব জারি রাখেন ইয়াসির। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে ছোঁন ফিফটি। ৩২ বলে ৬০ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলে দলের ১৫২ রানের মাথায় আউট হন তিনি। তার বিদায়ের পরপরই ধসে পড়ে রাজশাহীর ইনিংস। আকবর আলীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন ৩১ বলে ৩৪ রান করা বিজয়। ৩ উইকেটে ১৫২ রান থেকে ইনিংসের শেষ ৪.১ ওভারে আর ১৮ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে দুর্বাররা। নয়তো এমন ইনিংসে ২০০ পেরোনো ছিল সময়ের ব্যাপার।
১৭১ রানের নাগালে থাকা লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা জঘন্য হয় রংপুর রাইডার্সের। প্রথম ওভারেই ওপেনার ইরফান শুক্কুরের উইকেট হারায়। দুই বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন ইরফান। আরেক ওপেনার স্টিভেন টেইলরও দলের ১৫ রানের সময়। আসরে রংপুরের ব্যাটিং লাইনআপের ভরসা ইফতিখার আহমেদ পরের বলে গোল্ডেন ডাকে ফেরেন সাজঘরে। মাত্র ১৫ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে প্রচ- চাপে পড়ে যাওয়া রংপুর আর একবারের জন্যও খেলায় ফিরতে পারেনি। চাপ থেকে দলকে উদ্ধার করার অভিযানে নামেন সাইফ হাসান। খুশদিল শাহকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেন তিনি। ২৯ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলে থামেন সাইফ। এরপর ক্রিজে টিকে ছিলেন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ফিফটির দিকে। তবে ২৬ বলে ৪১ রানে থাকার সময় তার বিদায়ে এক রকম নিশ্চিত হয়ে যায় রংপুরের হার। শেষে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ১৪ বলে ২৩ রান কিছুটা সান্ত্বনা জোগায়। ব্যাট হাতে ব্যর্থ রায়ান বার্ল বল হাতে ত্রাতা হয়ে ওঠেন রাজশাহীর। ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে শিকার ধরেন ৪টি। ম্যাচসেরা বার্ল বলেন, ‘এমন একটি জয় দলের জন্য খুব উদ্দীপনার। বিশেষ করে প্লে-অফের দৌড়ে আমরা যখন ডু অর ডাই পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম।’ দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ এবং এসএম মেহেরাব।
এমন হারের পেছনে নিজেদের ভালো খেলতে না পারাকেই দায়ী করেন রংপুর অধিনায়ক সোহান। সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আপনি তো সব ম্যাচ জিতবেন না। কিন্তু হারাটা আমাদের কাছে অ্যালার্মিং। আমি মনে করি জিততে হলে ভালো ক্রিকেটটাই খেলতে হবে। আপনি আসবেন আর জিতে যাবেন, সেটা আশা করা ঠিক হবে না। এখান থেকে কীভাবে আরও স্ট্রংলি ফিরে আসা যায়, সেটা নিয়েই আমরা সবাই কাজ করব।’
রংপুরের প্লে-অফ নিশ্চিত হয়েছে আগেই। ১০ ম্যাচে রাজশাহীর চতুর্থ জয়ে বোর্ডে জমেছে ৮ পয়েন্ট। তাতে প্লে-অফের লড়াইটা বেশ জমিয়েই তুলেছে পদ্মা পাড়ের দলটি।
