হাসান-ছাবেরুল মাদক বেচে বিত্তশালী

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:০৮ এএম

কয়েক বছর আগেও নৌকার ত্রুটি সারাতে বন্ধুর কাছ থেকে এক হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন মো. হাসান ওরফে হাসান মাঝি।

ধারের টাকায় ত্রুটি সারিয়ে নৌকা নিয়ে সেদিন ছোটেন সাগরপানে। মাছ ধরে বিক্রি করে ঘরে ফিরলে তবেই চুলোয় আগুন দিতেন স্ত্রী। কিন্তু এখন আর বন্ধুর কাছ থেকে টাকা ধার করেন না হাসান মাঝি। উল্টো নিজের প্রাইভেট কারে চড়ে টাকা বিলান গরিবদের মধ্যে। কারণ এখন তিনি বিপুল সম্পদের মালিক। মাদকের টাকায় গ্রামে গড়ে তুলেছেন ‘শরীফ মঞ্জিল’ নামে বিলাসবহুল বাড়ি।

২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর হাসান ও তার ভাই ছাবেরুলের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানায় মামলা হয়। ওই মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক মো. জুনাইদ হোসেন। মামলা তদন্ত করতে গিয়ে দুই সহোদর মাদক পাচারের ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ তথ্য পেয়েছেন। তাদের ৯০ শতাংশ জমি ক্রোক করেছে আদালত এবং সম্পদের ওপর রিসিভার নিয়োগ করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক জুনাইদ হোসেন জানান, ইয়াবা বেচে এ দুই ভাই এখন কোটিপতি। মাদক বিক্রির টাকায় গ্রামের বাড়িতে গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল চারতলা বাড়ি। এ ছাড়া দুজনেরই আছে বিপুল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি।

মানিলন্ডারিং আইনে মামলার পর থেকে এ দুই ভাই আত্মগোপনে আছেন বলে জানিয়ে সিআইডির সাব-ইন্সপেক্টর জুনাইদ হোসেন বলেন, ‘হাসান মাঝি ও ছাবেরুল মাঝি এক সময় সাগরে মাছ ধরে চালাত তাদের সংসার। এখন নিজেদের আছে একাধিক নৌকা। চড়েন দামি গাড়িতে। মামলার তদন্ত শেষপর্যায়ে।’

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় মিয়ানমারের ছয় নাগরিকসহ আটজনকে আটক করেছিল র‌্যাব-৭। তাদের কাছ থেকে ছয় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। র‌্যাব-৭ তখন জানিয়েছিল, আটক হওয়া আটজন মিলে মিয়ানমার থেকে ইয়াবাগুলো সরাসরি চট্টগ্রামে নিয়ে এসেছিল। আনোয়ারার ইয়াবা কারবারি হাসান মাঝি ও ছাবেরুল ইসলাম তাদের দিয়ে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করেছিলেন।

আনোয়ারা থানা পুলিশ জানায়, হাসান মাঝি ও ছাবেরুল ইসলাম ওরফে ছাবের মাঝি দুজনই থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি। এর আগে ইয়াবাসহ আনোয়ারা থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন ছাবেরুল। পরে জামিনে বেরিয়ে ফের ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়েন। ছাবেরুল ও হাসান মাঝিকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে পুলিশ।

সূত্রটি জানিয়েছে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়ে দুদক দুই ভাইকে তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিলে ছাবেরুল ইসলাম তার সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। সেখানে তিনি ৬২ লাখ ২১ হাজার টাকার সম্পদ থাকার কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৪২ লাখ ৯৯ হাজার ও অস্থাবর সম্পদ ১৯ লাখ ২২ হাজার টাকা। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে ছাবেরুল ইসলামের মোট ৯০ লাখ ২২ হাজার টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের খোঁজ মেলে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ছাবেরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে মামলা করে দুদক।

অন্যদিকে দুদকের নির্দেশনা না মেনে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি হাসান মাঝি। তার অর্জিত সম্পদের মধ্যে ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করার তথ্য পায় দুদক। দুদক চট্টগ্রাম-২ কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ জানান, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারা দুজনই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে দুদক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত