খোলা আকাশের নিচে পলিথিনে ঘেরাও করে চলছে ক্লাস

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৪:৩৭ পিএম

মশারি বা পলিথিন মোড়ানো খেলার ঘর নয়। পলিথিন দিয়ে ঘিরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করানো হচ্ছে। গাছতলায় ওপরে ত্রিপল টানানো আর বাইরে শীতের ঠাণ্ডা বাতাস ঠেকাতে শিক্ষকরা এই অভিনব কায়দায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। ঘটনাটি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ অবস্থা দীর্ঘদিনের। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে আর শীতের দিনে বাইরে বসেই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করতে হচ্ছে।

স্কুলভবনটি পরিত্যক্ত হয়েছে অনেক দিন আগেই। ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তরা খসে পড়েছে। ভবনের নানা জায়গা ভেঙেও পড়ছে। এরমধ্যে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের পড়নো বা ক্লাস নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

শিক্ষককরা বাধ্য হয়েই স্কুলভবনের সামনের জায়গায় গাছের নিচে লেখাপড়া করাচ্ছেন। ভবনটি ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনার আশংকায় ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষ ওই ভবনে ক্লাস নিতে নিষেধ করেছেন। এমনকি গত ৪/৫ মাস আগেই নিলাম বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাকী সরকার ও ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জেবানন্দ বিশ্বাস জানায়, রোদ-বৃষ্টি আর এই শীতের মধ্যে আমরা ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারছি না। আমাদের স্কুলভবনটি যাতে তাড়াতাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন করা হয় তার দাবি জানাচ্ছি।

স্কুলের শিক্ষার্থী অভিভাবক সুশান্ত ঢালী ও চামেলী বিশ্বাস জানান, এ অবস্থায় ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় হয়। তাছাড়া বাইরে বসে ঠিকমতো শিক্ষাদানও করতে পারছেন না শিক্ষকরা।

বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে আরও কয়েক মাস আগে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিসি কনস্ট্রাকশন-এর কর্মকর্তা প্রকৌশলী সোহেল রানা যেটা বললেন তাতে আরও কত সময় লাগবে তা বলা কঠিন।

প্রধান শিক্ষক পল্লি বিশ্বাস জানান, এ অবস্থায় ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করানো যাচ্ছে না। মুখে মুখে কতটা আর পড়ানো যায়! ব্লাক বোর্ড ব্যবহার করানো যাচ্ছে না।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের শীতের হাত থেকে বাঁচাতে পলিথিন দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। ওপরে রোদ-বৃষ্টি ঠেকাতে দেওয়া হয়েছে ত্রিপল। এভাবে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে পারছে না বলে জানান প্রথান শিক্ষক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত