ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন বাতিলের দাবিতে ঝাড়ু নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির একটি পক্ষ। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৭টার দিকে জেলা বিএনপিসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হাতে ঝাড়ু নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
মিছিল শেষে সমাবেশে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জেলা বিএনপির সম্মেলন করতে দেওয়া হবে না বলে হুশিয়ারি দেন বক্তারা।
এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর ও ১৮ জানুয়ারি জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এক পক্ষ সম্মেলন সকলের প্রস্তুতি নিলেও অপরপক্ষের অনঢ় বিরোধিতার জন্য দুটি তারিখই পরিবর্তন করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
গত ২২ জানুয়ারি সম্মেলনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আইনজীবী আ জ ম মোরশেদ আল মামুন স্বাক্ষরিত জেলা বিএনপির দলীয় প্যাডে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
এরই প্রতিবাদে সোমবার রাত ৭টার দিকে জেলা শহরের পাওয়ার হাউজ রোড এলাকা থেকে জেলা বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হাতে ঝাড়ু নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টেংকের পাড় এলাকায় গিয়ে সমাবেশ করেন।
ঝাড়ু মিছিলে নেতাকর্মীরা ১ ফেব্রুয়ারির সম্মেলনকে অবৈধ ঘোষণা দিয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমাবেশে সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মইনুল হোসেন চপল, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গোলাম সরোয়ার খোকন, সাবেক সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটিসহ নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি দুই ভাগে বিভক্ত। ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট জেলা বিএনপির পাঁচ সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকে পাঁচ সদস্যের কমিটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মান্নান, সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি পক্ষ এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি এবং সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকনের নেতৃত্বে আরেকটি বড় অংশ রয়েছে।
গত প্রায় দুই বছর ধরেই উভয়পক্ষ পৃথকভাবে দলীয় সব কর্মসূচি পালন করে আসছে। নেতা-কর্মীদের বিরোধ দূর না করেই গত বছরের ২ নভেম্বর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিএনপির ফেসবুক পেজে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেলা বিএনপির ৩২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে।
জানা গেছে, আগের পাঁচ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আগের কমিটির ২ ও ৩ নম্বর সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি ও জহিরুল হক খোকন নতুন কমিটিতে ৩ ও ৪ নম্বর এবং কবির আহমেদ ভূঁইয়াকে ৩২ নম্বর সদস্য করা হয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নেতৃত্বে বিএনপির আরেকটি পক্ষ কবিরের অনুসারী। হাফিজুর ও জহিরুলের নেতৃত্বে শহরে সম্মেলন বিরোধী একাধিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মইনুল হোসেন চপল বলেন, কবির আহমেদ ভূঁইয়া ও তার অনুসারীরা মিলে ১ ফেব্রুয়ারি সম্মেলন ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপির মূল শক্তি ও মূল ধারাকে পাশ কাটিয়ে এই সম্মেলন দেয়া হয়েছে। আমরা এই সম্মেলন প্রতিরোধ করব। যাকে নিয়ে আজকে এই সম্মেলনের আয়োজন চলছে, সেই কথিত কবির আহমেদ ভূঁইয়া ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন (আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক)। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিএনপির নেতৃত্ব দিবে এটা তৃণমূল বিএনপি কখনই মেনে নিতে পারেনা। এটা মানা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। আমাদের এই আন্দোলনটা বিএনপির ত্যাগী নেতাদের পক্ষে। এই আন্দোলনটা আমরা চালিয়ে যাবো। আমরা জেলার ত্যাগী নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে সুষ্ঠু সম্মেলন চাই।
গোলাম সরোয়ার খোকন বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটিতে এই সম্মেলন করতে দেওয়া হবে না। এই অপশক্তিকে রুখে দেওয়া হবে। বুকের রক্ত দিয়ে এই সম্মেলন প্রতিহত করব।
এদিকে রাত ৭টায় সম্মেলনের পক্ষে জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক বাইজিদ আহমেদ হেলালের নেতৃত্বে বিরাসার মোড় থেকে টেংকেরপাড় পর্যন্ত একটি আনন্দ মিছিল বের করে।
এ বিষয়ে কথা বলতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল মান্নান ও সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
