ভিয়েতনাম থেকে ১ লাখ টন চাল এবং মরক্কো থেকে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ৭৩৯ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্য অধিদপ্তরের আওতায় ভিয়েতনাম থেকে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পর্যায়ে এক লাখ টন আতপ চাল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ভিয়েতনামের সাউদার্ন ফুড করপোরেশন থেকে এ চাল কিনতে ব্যয় হবে ৫৭৮ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা (সিডি ভ্যাট ছাড়া)। প্রতি টন চালের দাম ৪৭৪.২৫ মার্কিন ডলার। বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কো থেকে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই প্রস্তাবটিও অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। মরক্কো থেকে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ১ কোটি ৩২ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৬১ কোটি ৪ লাখ টাকা। প্রতি টন টিএসপি সারের মূল্য ধরা হয়েছে ৪৪০ ডলার।
এদিকে ভারত থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ১৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ২০২৫ সালের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। তারই আলোকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়ে চুক্তির আওতায় ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেডের সঙ্গে নেগোসিয়েশনের ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ করে ১ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত নেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
এই ডিজেল আমদানির ব্যয় ধরা হয় ৯ কোটি ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬৪ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ এক হাজার ১৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। প্রতি ব্যারেল ডিজেলের মূল্য ধরা হয়েছে ৫.৫০ ডলার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হলে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি তা অনুমোদন দিয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় ২০১৬ থেকে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। পাইপলাইন নির্মাণের আগে এনআরএল থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে পরে ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ থেকে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে।
এছাড়াও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ হাজার করে ২০ টন চিনি ও মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২১৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১১৫ টাকা ৪২ পয়সা কেজি দরে চিনি ও ৯৮ টাকা ৪৫ পয়সা কেজি দরে মসুর ডাল। পাশাপাশি আসন্ন রমজান উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ে নিম্ন আয়ের মানুষের সুলভ মূল্যে ওএমএসের (খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি) চাল বিক্রি করবে সরকার, যা আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সারা দেশে চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু হবে।
ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে ১০ হাজার টন চিনি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে ১১৫ কোটি ৪২ লাখ টাকায় এই চিনি কেনা হবে। প্রতি কেজি চিনির দাম পড়বে ১১৫.৪২ টাকা।
জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চিনি কেনার লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৪৪ হাজার টন। এ পর্যন্ত ক্রয় চুক্তি হয়েছে ৩৫ হাজার টন। নতুন করে এখন আরও ১০ হাজার টন চিনি কেনার অনুমোদন দিল উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।
এদিকে বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবি জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শেখ অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে ৯৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। প্রতি কেজির দাম পড়বে ৯৮.৪৫ টাকা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৮৮ হাজার টন। এ পর্যন্ত ক্রয় চুক্তি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৯৫০ টন। এখন আরও ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দিল উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।
