পাপ হবে যদি না লিখি ফিলিস্তিনগাথা
উন্মাদের মতো ক্ষেপে গিয়ে নয়,
ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঠা-া মাথায়
আর, শিশুর করোটি থেকে গলে পড়ছে মগজ,
শ্বেতশুভ্র কাফনে সন্তানকে মুড়ে পাথর হয়ে আছেন মা
বোবা হয়ে আছেন বাবা
আর, একই পৃথিবীতে আমরা উৎসবে মাতছি
আমাদের ফুর্তির ফানুস উড়ছে
ধিক এই মানবজনম
ধিক এই আত্মকেন্দ্রিকতা
আমাদের অনুভূতি ভোঁতা হয়ে গেছে
ব্রেকফাস্ট টেবিলে কফির পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে
আমাদের নির্বিকার চোখ টিভিতে দেখছে
গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৪৫ হাজার ৫১৪...
আজও রন্ধ্রে রন্ধ্রে তার শিশুরক্ত স্নান-উৎসব,
গাজায় গর্জায় শয়তানের সহস্র সহোদর
ঋষি-বাইডেন দিব্যি সুখনিদ্রা যান
আমার কেবল বিনীদ্র রাত, সজল দুচোখ...
হন্তারকেরা হাসপাতাল দখল করেছে
ইনকিউবেটরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে
ডিম ফুটে বেরুনো পাখিশাবকের মতন
অপরিণত শিশুদের দেখে আমি শব্দ করে কেঁদে ওঠি
আশ্চর্য, ওই শব্দ আমার পাশর্^বর্তিনীকেও ছুঁতে পারছে না!
ইসরায়েল এক বিমূর্ত বীভৎস গডজিলা
যার দানব নখরে ছিন্নভিন্ন হচ্ছে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর আয়ু,
সবুজ নারীর স্তন, শিল্পীর মনোভূমি
প্রার্থনার পাটাতন; আর, আমি ফিলিস্তিনি কবি আলমাধুনের মতো
মধ্যপ্রাচ্যে, ইউরোপে তাড়া খেতে খেতে
জেনে যাই আমাদেরই মতো উদ্বাস্তু আজ শান্তি শুভবোধ মানবিকতা
রে জালেম, মসজিদ ধ্বংস করে কী সুখ পাস
কবর গুঁড়িয়ে মৃতদেহ তুলে বিকৃত করা
এ কোন নৃশংসতা!
তোদের জন্ম কি দানবীর গর্ভে
বেড়ে উঠেছিস মলভা-ে!
যতক্ষণ আমার শ্বাস থাকবে
স্বাধীন ফিলিস্তিন চাইব
যতক্ষণ লেখার ক্ষমতা থাকবে
লিখে যাব ফিলিস্তিনগাথা
ইসরায়েলের প্রভু আমেরিকা আমাকে ভিসা দেবে না
না দিক, যদি না লিখি ফিলিস্তিনগাথা
পাপ হবে পাপ হবে পাপ হবে
