ভালো ট্র্যাক দিন অবশ্যই ভালো খেলব

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:২৯ এএম

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই সাড়া ফেলেছিলেন নাইম শেখ। নাগপুরে ভারতের বিপক্ষে ৪৮ বলে ৮১ রানের ইনিংসটা বাংলাদেশ দলকে দেখিয়েছিল সিরিজ জয়ের স্বপ্ন। এরপর অবশ্য নাইমের ক্যারিয়ারটা ঠিক ভালোভাবে ‘টেক-অফ’ করেনি। লম্বা সময় ধরে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু তার পক্ষে সম্ভব হয়নি দলকে ভালো একটা শুরু এনে দেওয়া। বরং যোগ হয়েছে ধীরে খেলার অপবাদ, স্ট্রাইক রোটেট করতে না পারার ব্যর্থতা। এবারের বিপিএল শুরুর আগে এনসিএল টি-২০-তে ঢাকা মেট্রোর হয়ে খেলা নাঈমই আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। বৃহস্পতিবার রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ১১১* রানের ইনিংস খেলে বিপিএলেও সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে গেছেন নাঈম। ১১ ম্যাচে ৪৪৪ রান, স্ট্রাইকরেট দেড়শ ছুঁইছুঁই। এই জায়গাটেই বড় লাফ দিয়েছে নাইমের ব্যাট। সেঞ্চুরির পর সংবাদ সম্মেলনে এসে জানালেন অফ-সিজনে নিজের ব্যাটিং নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি জীবনটাকেও নিয়ম শৃঙ্খলায় বেঁধে ফেলার কারণেই এসেছে এই সাফল্য।

টানা ৮ ম্যাচ জয়ের পর টানা চার ম্যাচে হারল রংপুর রাইডার্স। গ্রুপ পর্বে নিজেদের সবশেষ ম্যাচে রংপুর হেরেছে মূলত খুলনা টাইগার্সের নাঈমের কাছেই। ৬২ বলে অপরাজিত ১১১ রান করেছেন নাইম, ৭ বাউন্ডারির পাশাপাশি ৮ ছক্কা। সবচেয়ে যেটা ভালো ছিল তার ব্যাটিংয়ের, তা হচ্ছে ইনিংস বড় করতে গিয়ে বল নষ্ট করেননি। ৩৩ বলে হাফসেঞ্চুরির পর ১০০-তে পৌঁছে গেছেন ৫৫ বলে। বাউন্ডারি মারাটাই নাইমের ব্যাটিংয়ের শক্তির জায়গা। জায়গায় দাঁড়িয়েই ৭৬ রান নিয়েছেন নাঈম, ৭ বাউন্ডারি আর ৮ ছক্কায়। সেইসঙ্গে এক রান এক রান করে প্রান্ত বদলে সতীর্থকেও স্ট্রাইক দিয়েছেন, যেটা তার ব্যাটিংয়ে আগে দেখা যেত না। অফস্পিনের বিপক্ষে দুর্বলতা কাটাতে জোর দিয়েছেন সুইপ শটে। সব মিলিয়ে নাঈমের খেলায় একটা গোছানো পরিকল্পনার ছাপ স্পষ্ট। বিপিএলেও ৫৮, ৭৭ ও ৫১ রানের ইনিংস ছিল সেঞ্চুরির আগে, বৃহস্পতিবার রানটাকে তিন অঙ্কে নিয়ে যাওয়ার পরও থামানো যায়নি নাঈমকে। এই পরিবর্তনের পেছনের কুশীলবদের ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি নাঈম, ‘যদি সেভাবে বলতে চাই, ঘরোয়া ক্রিকেটের সব কোচের কথা বলতে হবে। বাবুল স্যার, সোহেল স্যারের সঙ্গে কাজ করেছি। আনোয়ার ভাই নামে একজন আছে। নির্দিষ্ট একজন বলতে গেলে মাইন্ড ট্রেনিং নিয়ে কাজ করেছি, ওটা অনেক ভূমিকা রাখছে। শৃঙ্খলাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই আমার পরিবার।’ পরিবর্তনগুলো আনতে লম্বা সময় ধরে খেটেছেন, ‘মানসিকতায় পরিবর্তন অবশ্যই জরুরি। এটা না এলে লম্বা ইনিংস খেলা খুব কঠিন ওপেনার হিসেবে। আগে অফস্পিনে অনেক সংগ্রাম করছিলাম। ওই জায়গা থেকে বের হয়ে আসছি কীভাবে ডট না করে স্ট্রাইক রোটেট করা যায়। আর রেঞ্জ হিটিং। তিন বছর আগে মুশফিক ভাই বলেছিলেন, রিভার্স সুইপ নিয়ে কাজ করা গেলে আমার জন্য সহজ হয়ে যাবে। এখন অফস্পিনে সুইপ-রিভার্স সুইপ অনেক সহজ হয়েছে,' সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন নাঈম। উইকেট ভালো হলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদেরও শট খেলার আত্মবিশ্বাস বাড়বে, রান বাড়বে, যেটা এই বিপিএলে হচ্ছে বলে মনে করেন নাঈম, ‘ভালো উইকেট হলে সবসময় ভালো। দেশিদের নিয়ে প্রশ্ন উঠত আগে, বাউন্ডারি মারতে পারি না, চার-ছয় মারতে পারি না। ভালো ট্র্যাক দিন, অবশ্যই ভালো খেলব। এ রকম উইকেট দিলে ব্যাটাররা সবসময় রান করবে।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত