বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত সংস্কারে পাইলটিংসহ নানা প্রস্তাব

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:০০ এএম

বৈষম্যহীন টেকসই অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্র্নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেখানে দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ব্যবস্থাসহ অন্যান্য নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে পাইলটিং প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে টাস্কফোর্স।

সেই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা নিরাপত্তা নিশ্চিত, প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, দেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রসার, ঘুষবাণিজ্য বন্ধসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র সংস্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। এ ক্ষেত্রে কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে ভারতের আদলে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার তেজগাঁও কার্যালয়ে শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।

প্রতিবেদনে পরীক্ষামূলকভাবে সরকারের একটি মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সব প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছে টাস্কফোর্স। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে প্রশাসনে বড় উন্নতি পরিলক্ষিত হবে।

সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তন কমিউনিকেশন ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার, ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা, নাগরিক সেবা পেতে ঘুষবাণিজ্য বন্ধ এবং ভারতের আধার কার্ডের মতো জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে উন্মুক্ত ডেটা প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করার সুপারিশ করেছে টাস্কফোর্স। যাতে নাগরিক বিভিন্ন সেবা আরও সহজ হয়।

এ ছাড়া ডিজেল, সার এবং ভোজ্য তেলের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য জরুরি মজুদ, ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করা,  আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে চলমান তীব্র গ্যাস সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে মনোযোগ দেওয়া, অব্যবহৃত জমিতে নবায়নযোগ্য জ¦ালানি তথা সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে স্থাপন, পরিবেশ রক্ষায় বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণের কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

পাশাপাশি নগর পরিবহনের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যালিং বাস্তবায়ন ও একক অপারেটর বাস ফ্র্যাঞ্চাইজিতে রূপান্তর করার কথা সুপারিশ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব : স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে পাইলটিংয়ের অংশ হিসেবে ঢাকার একটি নির্দিষ্ট সরকারি হাসপাতাল নির্বাচন করার সুপারিশ করেছে টাস্কফোর্স। যেখানে একজন যোগ্য হাসপাতাল প্রশাসক নিয়োগ এবং একটি নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে। পাশাপাশি হাসপাতালে একটি রিয়েল-টাইম মনিটরিং ড্যাশবোর্ড থাকবে, যাতে সেবাগ্রহণকারীদের বিভিন্ন অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকবে। সাধারণ মানুষ খুব সহজেই যাতে অনলাইনের মাধ্যমে এটি দেখতে এবং সেবার মান ও অন্যান্য বিষয়ে তাদের মতামত দিতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও রাখা হবে সেখানে।

পাশাপাশি একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের সঙ্গে গ্রামীণ সরকারি স্কুল সংস্কারের জন্য পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নেরও প্রস্তাব করেছে কমিটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের চিকিৎসাসেবার সুযোগ অনেকটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের অভ্যন্তরে উন্নত স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদেশিদের বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হলে সেবার মান উন্নত হবে।

বিআরটিএ সংস্কার : বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সংস্কারের পদ্ধতি অন্যান্য খাতের জন্য প্রস্তাবিত পদ্ধতিগুলোকে প্রতিফলিত করবে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। বলা হয়, এখানে কর্মক্ষমতা ও সেবার মান পর্যবেক্ষণ খুবই অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে রিয়েল-টাইম ডেটা ব্যবহারের জন্য যুব ও নাগরিক পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুজ্জীবিত করা : বুড়িগঙ্গা নদী বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। এ নদী এবং ঢাকাকে বাঁচাতে জরুরি পদক্ষেপ অপরিহার্য। প্রয়োজনে এ প্রকল্পের জন্য তাৎক্ষণিক, বাধাহীন পদক্ষেপ গ্রহণের সুবিধার্থে জরুরি আইন প্রণয়ন করা উচিত। যার নেতৃত্বে থাকবেন একজন নিবেদিতপ্রাণ মন্ত্রী বা উপদেষ্টা। তাকে সহায়তা করবে একটি শক্তিশালী কারিগরি এবং আইনি দল। স্বার্থান্বেষী মহল থেকে প্রত্যাশিত প্রতিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে, সম্ভাব্য নাশকতা এড়াতে এখানে বিশেষ বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

গ্লোবাল এক্সিলেন্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা : বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি/কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ের ওপর স্নাতকোত্তর শিক্ষাদান এবং গবেষণার জন্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকার উপকণ্ঠে কমপক্ষে একটি গ্লোবাল এক্সিলেন্স সেন্টার স্থাপনের জরুরি। এ কেন্দ্রটি শুধু স্থানীয় শিক্ষার মান উন্নত করবে না বরং আন্তর্জাতিক পণ্ডিত এবং গবেষকদের আকর্ষণ করার লক্ষ্যেও কাজ করবে। উদ্যোগটি সফল হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ বিজ্ঞান, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তির মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) এবং বিশ্বব্যাপী অন্যান্য বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের মতো সফল মডেলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে, আমরা এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে পারি যা উদ্ভাবন, গবেষণা ও মানসম্পন্ন শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয় এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নত গবেষণা ও অধ্যয়নের জন্য একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে তৈরির সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ বিমানের পুনর্মূল্যায়ন : প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে, জাতীয় বিমান সংস্থা বাংলাদেশ বিমান আধুনিক বিমান চলাচলের মান এবং কর্মক্ষমতার মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সংস্থাটির বিরুদ্ধে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, নিম্নমানের সেবাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিযোগিতার এ বাজারে বিমানকে উন্নত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে বিমান যদি মানসম্মত সেবা দিতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়, তাহলে একটি নতুন বিমান সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বাংলাদেশ এয়ারওয়েজ। বিমানের বিদ্যমান সম্পদের অর্ধেক ব্যবহার করে বিশ্বমানের ব্যবস্থাপনায় একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হবে এটি।

ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে সুপারিশ : দেশে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করে এমন অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য মোকাবিলায় একটি কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ সংস্থাটি ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর ও বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক শাসনের সব দিককে প্রভাবিত করে এমন নিয়মকানুনগুলো পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন এবং সুপারিশ করবে। পাশাপাশি অদক্ষতাগুলো শনাক্ত করবে, যেমন অতিরিক্ত কাগজপত্র, অপ্রয়োজনীয় সম্মতিপত্র ইত্যাদি।

ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করা গেলে বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবে। বাংলাদেশি পণ্য, পরিষেবা এবং দক্ষ শ্রম যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার পায়, তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধিরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তদারকি কমিটির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ এবং সরকারের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি অবিলম্বে গঠন করা উচিত, যারা কাস্টমস, ভ্যাট এবং কর সম্পর্কিত অসংগতিপূর্ণ, স্বেচ্ছাচারী ও বৈষম্যমূলক নীতি/নিয়ন্ত্রক বাধা দূর করার জন্য এনবিআরকে কীভাবে পুনর্গঠন করা উচিত, তা মূল্যায়ন করে প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুপারিশ করবে।

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পুনরুজ্জীবিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে, আমলাতান্ত্রিক বাধা, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং অস্পষ্ট নীতির মতো বেশ কয়েকটি কারণ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সফল বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। প্রক্রিয়াটি সহজ করতে এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য এ বিষয়গুলোর সহজ সমাধান করা উচিত সরকারের।

বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন দ্রুত করার জন্য তৈরি বহুল আলোচিত ওয়ান স্টপ সার্ভিসের (ওএসএস) দক্ষতা উন্নয়নেরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। বর্তমানে এতে চারটি সংস্থা থাকায় বিনিয়োগকারীদের জন্য আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব ও জটিলতা তৈরি করছে। এটিকে একটি একক কর্তৃপক্ষের অধীনে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

দক্ষ শ্রম রপ্তানির সুযোগ : বিভিন্ন দেশে দক্ষ শ্রম রপ্তানির সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে টাস্কফোর্স তা কাজে লাগানোর সুপারিশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশকে দক্ষ কর্মীর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দেখছে। কারণ তাদের জনসংখ্যা ক্রমহ্রাসমান এবং বয়স্কদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য দেশের অভ্যন্তরে নানা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে টাস্কফোর্স।

জনসেবাসংক্রান্ত কল সেন্টারগুলোকে সহজীকরণ : সাধারণ এবং জরুরি উভয় ক্ষেত্রেই জনসেবার জন্য অসংখ্য কলসেন্টার নম্বর থাকার কারণে বিভ্রান্তি তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে দুটি কেন্দ্রীয় নম্বর চালু করার পরামর্শ দিয়েছে টাস্কফোর্স। যার একটি হবে সাধারণ অনুসন্ধানের এবং অন্যটি জরুরি সেবার জন্য। এ ক্ষেত্রে উন্নতি প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেছে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কলসেন্টারের লাইনে অপেক্ষার সময় কমার পাশাপাশি ভোগান্তি ও বিভ্রান্তি দূর হবে বলে মনে করে টাস্কফোর্স।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য হাট : প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের উচিত ভারতের দিল্লির সফল হস্তশিল্প বাজারের আদলে একটি ‘ঢাকা হাট’ স্থাপনের কথা বিবেচনা করা। যেখানে সারা বছর এসব উদ্যোক্তার পণ্য প্রদর্শন করার সুযোগ থাকবে। এর ফলে স্থানীয় পণ্যে ও ছোট ছোট ব্যবসায়ীর প্রসার তথা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে। দেশে তৈরি হবে নতুন নতুন উদ্যোক্তা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত সুপারিশগুলোতে বাংলাদেশের অন্তর্র্বর্তী সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য একটি কৌশলগত কাঠামোর রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। জনসেবার অদক্ষতা এবং পরিবেশগত উদ্বেগ বিবেচনায় লক্ষ্যযুক্ত হস্তক্ষেপের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন রয়েছে, যা স্থায়ী পরিবর্তন তৈরি করতে পারে।

এতে টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, টাস্কফোর্সকে তাৎক্ষণিক এবং স্বল্পমেয়াদি, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপগুলো চিহ্নিত করার আহ্বান জানানো হয়েছিল, যা এখনই গ্রহণ করা যেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিকল্পগুলো যা জরুরি, টেকসই দীক্ষার দাবি রাখে। এ টাস্কফোর্সের লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য নীতি সুপারিশ তৈরি এবং উন্নয়নের পথ, নীতি ও কর্মসূচি চিহ্নিত করা, যা একটি নতুন, যুব-অনুপ্রাণিত বাংলাদেশ রূপকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর উন্নয়ন কৌশল পুনর্গঠন, আর্থিক ব্যবস্থায় ফাঁকফোকর খুঁজে বের করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য ১২ সদস্যের এ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. কেএএস মুর্শিদকে। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মো. কাউসার আহাম্মদ। অন্য সদস্যরা হলেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ড. আখতার মাহমুদ, সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের গবেষণা বিভাগের সাবেক প্রধান ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মুশফিক মোবারক, বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, এমসিসিআইর সাবেক সভাপতি নাসিম মঞ্জুর, বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. মঞ্জুর আহমেদ, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং বিডি জবস ডটকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম ফাহিম মাশরুর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত