গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় আরও তিন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিচ্ছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রথম ধাপে কয়েক দফায় ৩৩ জন জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। সেই ধারাবাহিকতায় ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি গতকাল শুক্রবার আরও তিন জিম্মির নাম প্রকাশ করেছে। এ তিন জিম্মিকে আজ শনিবার মুক্তি দেওয়া হবে। তিন জিম্মির বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ৯০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে তেল আবিব। মুক্তি পেতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৯ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। বাকি ৮১ জনকেও দীর্ঘমেয়াদে কারাবাসের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। এদিকে গাজায় প্রায় আড়াইহাজার শিশু চরম মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
হামাসের সশস্ত্র শাখার মুখপাত্র আবু ওবেইদা নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানিয়েছেন, শনিবার মুক্তি পেতে যাওয়া তিন জিম্মি হচ্ছেন ওফের কালডেরন, কিথ সিইগেল ও ইয়ারডেন বাইবাস। ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি থাকা প্রায় ৪০০ ফিলিস্তিনিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখ যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়ার কথা। এ ধাপে অবশিষ্ট সব জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগারে থাকা আরও ফিলিস্তিনিকে ছেড়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে টেকসই শান্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে গাজার পুনর্গঠনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করে নজিরবিহীন এক হামলা চালায় হামাস। ওই হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত ও অন্তত ২৫০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে আসে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। এর জবাবে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে তেল আবিব। প্রায় ১৫ মাসের আগ্রাসনে ৪৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
এদিকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। যুক্তরাষ্ট্রের একদল চিকিৎসকের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ আহ্বান জানান তিনি। চিকিৎসক দলটির চার সদস্যের সবাই গাজায় ১৫ মাস ধরে যুদ্ধ চলাকালে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছেন। চিকিৎসক দল জানিয়েছে, এ শিশুরা আগামী সপ্তাহগুলোতে মৃত্যুঝুঁকির মুখে রয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডবে গাজার পুরোটা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এ শিশুদের জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তারা আবারও পরিবারের কাছে ফিরতে পারে।
