জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ল মিয়ানমারে

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:১৪ এএম

মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা আরও ছয় মাস বর্ধিত করেছে দেশটির জান্তা সরকার। অং সান সু চির বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসার চার বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। গতকাল শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম এমআরটিভি জানিয়েছে, সামরিক জান্তা ও সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সামরিক কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। সামরিক জান্তার তথ্য দপ্তর আরও জানিয়েছে, দেশটির ২০০৮ সালে রচিত সংবিধানের ৪২৫ ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানিয়েছে, অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন আয়োজন করতে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দরকার। সাধারণ নির্বাচন সফলভাবে আয়োজন করতে এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত হয়ে আছে দেশটি। চার বছরের যুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন বলে জাতিসংঘের এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, দেশব্যাপী মারাত্মক খাদ্য সংকট ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির এক-তৃতীয়াংশ জনগণের ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন। এ অবস্থায় যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ জেতার মানসিকতা ত্যাগ করে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসায় আহ্বান জানিয়েছেন মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি।

এদিকে চলতি বছরের শেষের দিকে মিয়ানমারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পনার রূপরেখা প্রকাশ করেছে জান্তা সরকার। এর অংশ হিসেবে ভোটারদের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য পরিচালিত একটি আদমশুমারির ফলও প্রকাশ করেছে। তবে বেশ কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠী এ নির্বাচনের বিরোধিতা করেছে। তাদের অভিযোগ, এ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জান্তা বাহিনী বৈধতা অর্জনে তোড়জোড় শুরু করেছে। এতে গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটিতে জান্তার এ নির্বাচনী প্রচেষ্টা সহিংসতার ঝুঁকি তীব্র করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। গত বছর ডিসেম্বরে প্রকাশিত আদমশুমারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ৩৩০টি শহরের মধ্যে মাত্র ১৪৫টিতে সরেজমিনে শুমারি করতে সক্ষম হয়েছে জান্তা সরকার। এর মধ্যে ১৬০ থেকে ১৭০টি শহরে জান্তা সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত