ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে তাই ভক্তরাও প্রাণভরা ভালোবাসা দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন নেইমারকে। শুক্রবার রাতে বেলমিরো স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন ২০ হাজার সমর্থক। অনুষ্ঠান শুরুর আগে বৃষ্টি হয়। কিন্তু ভক্ত-সমর্থকরা কি আর ওসব পাত্তা দেন। অনেক দর্শকের হাতেই ছিল ব্যানার, ‘দ্য প্রিন্স ইজ ব্যাক।’
‘দ্য প্রিন্স ইজ ব্যাক’ শিরোনামে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় সান্তোসের ফেসবুক পেইজে। শৈশবে এই ক্লাবে পা রাখা থেকে তার বেড়ে ওঠা ও নায়ক হয়ে ওঠার পথচলা তুলে ধরা হয় সেখানে। ১৮ নম্বর জার্সি দিয়ে শুরু করে সান্তোসে পরে ১১ নম্বর জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন নেইমার। এবার পাচ্ছেন ক্লাবের আইকনিক ১০ নম্বর জার্সি। যে জার্সি গায়ে এই ক্লাবে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েছেন কিংবদন্তি পেলে।
পেলেকে সম্মান জানিয়েই তার জার্সির উত্তরাধিকার হলেন নেইমার। ভিভিওতে নেইমার বলেন, ‘কিং পেলে, আপনার ইচ্ছা আমার কাছে আদেশের মতো। সিংহাসন ও মুকুট এখনো আপনার, কারণ আপনি চিরন্তন। তবে এই ১০ নম্বর...যে পবিত্র জার্সি প্রতিনিধিত্ব করে সান্তোস ও গোটা বিশ্বের অনেক কিছু, সেই জার্সি গায়ে চাপানো আমার জন্য সম্মানের। আপনার উত্তরাধিকারের সম্মান রাখতে সম্ভাব্য সবকিছু করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলন এবং অনুষ্ঠানে বলা নেইমারের কথার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো দেশ রূপান্তর পাঠকদের জন্য।
সান্তোসে ফেরা নিয়ে
নেইমার : কিছু সিদ্ধান্ত থাকে, যেটা ফুটবলীয় চুক্তির বাইরে। আল হিলালে ভালোই ছিলাম। পরিবার ভালো ছিল। কিন্তু কিছু ঘটনায় সিদ্ধান্তটি নিতেই হলো। অনুশীলনে নিজেকে অসুখী লাগছিল। ফেরার সুযোগটা পেয়ে দ্বিতীয়বার ভাবিনি।
এখানে এসে কেমন লাগছে?
নেইমার : মানসিকভাবে আমি খুব খুশি, যখন আমি এখানে পা রাখলাম, এটি আমাকে ১৭, ১৮, ১৯ বছর বয়সে ফিরিয়ে নিয়ে গেল। বলতে গেলে আমি পুনরুজ্জীবিত হয়েছি। আমি পরিপক্ব মানুষ হিসেবে ফিরে এসেছি। সুন্দর এক পরিবার নিয়ে। তাই অবশ্যই আমি ভিন্ন এক মানুষ, কিন্তু জয়ের মানসিকতাটা একই আছে। আমি এখানে সুখী হতে এসেছি। এই সেই ভক্তরা, যাদের আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।
দল এবং কোচ পেদ্রো কাইশিনা প্রসঙ্গে
নেইমার : আমি শুনেছি পেদ্রো কাইশিনা একজন যোগ্য কোচ, যিনি আক্রমণাত্মকভাবে খেলতে পছন্দ করেন। আর এটা সান্তোসের ডিএনএতে আছে। তাকে শুধু মানিয়ে নিতে হবে, সময় লাগবে, সান্তোসকে ভালো কিছু করতে দেখতে এক মাস লাগবে না। দরকার অনুশীলন, ভুল খুঁজে বের করে শুধরানো। যখন দল ভালো করবে না, আশা করি আমি কথার মাধ্যমে এবং অনুশীলনে দলকে সহায়তা করতে পারব, তাতে আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে। আমি জানি আমি কে এবং আমি আমার ভূমিকা ভালো করেই জানি। আমি সাহায্য করতে এসেছি এবং আরও একজন হতে এসেছি, যে দলের জন্য কাজ করবে এবং জীবন দেবে, যাতে সান্তোস টেবিলের শীর্ষে থাকতে পারে, যেখানে এটি (ক্লাব) থাকার যোগ্য।
সান্তোসে সংক্ষিপ্ত চুক্তি?
নেইমার : চুক্তি বাড়ানো নিয়ে এখনই কথা বলাটা তাড়াতাড়ি হয়ে যায়।
সান্তোস আমাকে ফিরে আসার সুযোগ দিয়েছে। অবশ্যই আমি এখানে আসার জন্য অনেক কিছু ত্যাগ করেছি, তবে বিষয়টি ভালোই হয়েছে। এখন ছয় মাসের চুক্তি, যা অবশ্যই পরে বাড়ানো যেতে পারে, আমরা জানি না আগামীকাল কী ঘটবে। দুই সপ্তাহ আগেও আমি ভাবিনি যে আমি এখানে থাকব। আমি ফিরে এসেছি খেলতে এবং সুখী হতে, গোল করতে এবং সান্তোসকে সাহায্য করতে। তারা যে দুয়ার খুলে দিয়েছে আমি খুশি।
দলকে রক্ষা করতেই কি আসা?
নেইমার : যদি এটি টেনিস হতো, আমি অবশ্যই গ্যারান্টি দিতাম। কিন্তু এটি ফুটবল, দলগত খেলা। বিশ্বে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড় (ফুটবল ম্যাচ) একা জেতাতে পারে। আমি জানি ভক্তরা চাইছিল আমি সান্তোসে ফিরি। তাদের অনেকে আমাকে দলের ত্রাণকর্তা ভাবতে পারে। তবে বিষয়টি এমন নয়, অন্য খেলোয়াড়রাও গুরুত্বপূর্ণ। আমার জীবনে অনেক কিছুতে জয়ী হয়েছি এবং এটিও তেমনই। (এখানে) আমি একা জিতব না। বিশ্বের অন্য যেকোনো দলের মতো আমিও আমার সতীর্থদের ওপর নির্ভর করি। আশা করি আমার ভূমিকা দলে পার্থক্য গড়ে দেবে।
সান্তোস থেকে গিয়ে কী কী পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করেন?
নেইমার : আমি সবকিছু পরিবর্তন করেছি। আমার দাড়ি বড় হয়েছে, আমি শক্তিশালী হয়েছি, আমার মনে হয় অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে, আমার খেলার ধরনসহ। আপনার এমন মুহূর্ত আসবে যখন আপনি পড়ে যাবেন এবং আপনাকে আবার উঠে দাঁড়াতে হবে। আমি এখন ভিন্ন একজন মানুষ। আমি নিশ্চিত যে আজ আমি যে মানুষটি আছি, তা সব দিক দিয়ে সান্তোসকে সাহায্য করবে।
কী কী অর্জন হতে পারে?
নেইমার : আমি একজন প্রতিযোগিতামূলক মানুষ। আমি প্রতিযোগিতার সঙ্গে জড়িত সবকিছু জিততে চাই। আমি সান্তোসে ফিরে এসেছি চ্যাম্পিয়ন হতে। এটি ১৩ বছর পর ফিরে আসা, আবারও পাউলিস্তা জেতা, যা আমি তিনবার জিতেছি, তবে আবার জিতলে এটি আলাদাই হবে। আমার রক্তে আছে জেতা। আপনারা জানেন, আমি কতটা প্রতিযোগিতামূলক। আমি এখানে আড্ডা দিতে আসিনি, আমি এখানে বাড়িতে সোফায় বসে থাকতে আসিনি। আমি এখানে ফুটবল খেলে সুখ খুঁজতে এবং সান্তোসকে সাহায্য করতে এসেছি। আমি সান্তোস ভক্তদের খুশি করতে এবং নিজেকে খুশি করতে নিবেদিত হব।
অনুষ্ঠানে বলা কথার চুম্বক অংশ
একসঙ্গে দারুণ সময় আমরা কাটিয়েছি এখানে। আরও অনেক কিছু দেখানোর ও করার বাকি আছে। আশা করি নান্দনিক খেলার সাহস দেখাতে ঘাটতি থাকবে না আমার। অবশ্যই জাতীয় দলে ফিরতে চাই। আমার এখনো কিছু অর্জন বাকি আছে (বিশ্বকাপ), একটি মিশন, যা আমি মনে করি আমার শেষ (মিশন), তাই যেভাবেই হোক আমি এটি অর্জন করতে চাই। আমি অনেক দিন মাঠ থেকে দূরে ছিলাম, আমার ইনজুরির পরে আল-হিলালের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছি। আমি যেকোনো জায়গায় খেলতে পারি। আমি বছরের পর বছর ধরে ১০ নম্বর অবস্থানে খেলেছি। এটি কোচের ওপর নির্ভর করবে, যে উইংয়ে খেলব, নাকি নম্বর নাইন, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, তিনি যা চান।
