সুইজারল্যান্ডে থাকা সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:৪৫ পিএম

আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা, সাবেক স্থানীয়  সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে সু‌ইজারল্যান্ডে। তবে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছে গত রবিবার। 

আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন। আবেদনটি করেন মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন। আবেদনের ওপর শুনানি করেন দুদকের কৌঁসুলি মীর আহমেদ আলী সালাম।

দুদকের আইনজীবী আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওনি (খন্দকার মোশাররফ হোসেন) কোথায় আছেন তা আমাদের জানা নেই। দুদক তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি করেছি। আদালত তার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।’   

মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কর্মকর্তা আবেদনে বলেন, সাবেক বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ক্ষমতার অপব্যহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধানের জন্য টিম গঠন করা হয়েছে। 

বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে, খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিদেশ গমন রোধ করা প্রয়োজন। 

খন্দকার মোশাররফ হোসেন ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন তিনি। দায়িত্ব পেয়েছিলেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের। পরে তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ফরিদপুরের রাজনীতিতে একছত্র অবস্থান ও প্রভাব তৈরি করেন মোশাররফ। ২০১৫ সালে তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করলে তাকে আর মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। তবে, মন্ত্রিত্ব না পেলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।
 
২০২০ সালের ১৬ মে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে চাপে পড়েন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এর কিছুদিন পর ফরিদপুর শহরের বদরপুর এলাকায় তার বাসায় অভিযান চালিয়ে তার দুই ঘনিষ্ঠ সহচর জেলা সদর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত এবং বরকতের ভাই ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে গ্রেপ্তার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এ দুজনের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা হয়। এরপর থেকে অনেকটা আড়ালে চলে যান খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলায় ২০২২ সালের মার্চে গ্রেপ্তার হন তার ভাই ফরিদপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর। 

এর আগে পরে মোশাররফ হোসেন ঘনিষ্ঠ আরও অনেকেই গ্রেপ্তার হন। ধারণা করা হয় প্রতিকূল পরিবেশ ও নানা চাপের মুখে ২০২২ সালের এপ্রিলে তিনি সুইজারল্যান্ডে চলে যান। সেখানে জুরিখে মেয়ের বাসায় অবস্থান করছেন তিনি। 

জানতে চাইলে দুদক কর্মকর্তা সালাউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন) এখন কোথায় আছেন সে বিষয়ে অফিসিয়ালি দুদকের কাছে কোনো তথ্য নেই। যদি বিদেশে থেকে থাকেন এবং যদি ফিরে আসেন তাহলে আদালতের এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ইমিগ্রেশন যেন তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয় সেজন্য এ আবেদন করা হয়। 

তিনি বলেন, ‘দুদকের তদন্ত বা অনুসন্ধানে থাকা ব্যক্তিদের কেউ পলাতক বা আত্মগোপনে থাকলে ওই ব্যাক্তি যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন সেজন্য আদালতে আবেদন করে তার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। এ আবেদনটিও এই প্রক্রিয়ার অংশ।’ 

দুদকের এই কর্মকর্তা আরও জানান, খন্দকার মোশাররফ হোসেনের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো প্রতি উত্তর আসেনি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত