ফ্যাসিস্ট ও খুনিরা অন্য দলে যোগ দিলে প্রতিরোধ করা হবে: মজনু

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:০২ পিএম

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু বলেছেন, ফ্যাসিস্ট ও খুনিদের শুধুমাত্র বিএনপিতে নয়, অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিলে সেখানেও প্রতিরোধ করা হবে। পতিত স্বৈরশাসকের দোসররা এখন নিজেদের খোলস পাল্টানোর চেষ্টা করছেন। যারা ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে এবং মদদ দিয়েছে তাদের কোনও ছাড় নেই।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সদরঘাটে পার্কিং ইয়ার্ডে কোতোয়ালি থানা বিএনপি আয়োজিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থাপিত ৩১ দফা সংস্কার ও জনসম্পৃক্তির ধারাবাহিক কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্মশালাটি করেন সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন। ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি উপস্থাপন এবং বিশ্লেষণ করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

মজনু বলেন, আল্লাহ পাপীদের বিচারের নমুনা পৃথিবীতেই দেখিয়ে থাকেন। খালেদা জিয়াকে এক কাপড়ে তার বাড়ি থেকে বের করেছিলো হাসিনা। আজকে দেশের ছাত্রজনতা শেখ হাসিনার বাড়ি ইট খুলে নিয়ে গেছে। অনুশোচনা করলে আল্লাহতায়ালাও ক্ষমা করে দেন। কিন্তু হাজার হাজার ছাত্রজনতাকে হত্যা করেও শেখ হাসিনার ভেতর কোনও অনুশোচনা নেই।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, বাংলাদেশের মানুষ গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখান করেছে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের রাজনীতিকে প্রত্যাখান করেছে, তাদের বিতাড়ন করেছে। সেই আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগ নামে রাজনীতি করতে পারবে না। আমরা আওয়ামী লীগের গণহত্যার এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিচার দাবি করছি।

ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, সচিবালয় থেকে শুরু করে নিন্মস্তরে ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড পর্যায়ে শাসন ও ক্ষমতার পরিবর্তন আনতে হবে। নতুবা কোনো পরিবর্তনের সুফল পাওয়া যাবে না। শেখ মুজিবুর রহমান কয়েক দিনের ব্যবধানে সংবিধান পরিবর্তন করে দিয়ে বাকশাল কায়েম করতে পেরেছে, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। শহীদ জিয়া দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছেন। খালেদা জিয়া দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছেন। আর তারেক রহমান ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় দেওয়ার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

কর্মশালায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন- শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থেকে বিশৃঙ্খলা করার জন্য অর্থ বিনিয়োগ করেছেন, প্রধান উপদেষ্টা এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দোসররা উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত আছেন। আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম বাদ দেওয়ার জন্য, কিন্তু আপনারা শোনেন নাই। শেখ হাসিনার দোসররা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বহাল রয়েছে। এদের বহাল রেখে আপনি বেশি দূর এগোতে পারবেন না।

এতে আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য, হামিদুর রহমান হামিদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন উর রশীদ হারুন, লিটন মাহমুদ, আবদূস সাত্তার, হাজী মনির হোসেন চেয়ারম্যান, সাইদুর রহমান মিন্টু ( দফতরের দায়িত্বে), ফরহাদ হোসেন, মোশাররফ হোসেন খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন তুহিন, শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম সবুজ, অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের, হাজী কামাল হোসেন, হাজী মোহাম্মদ নাজিম, মীর হাসান কামাল তাপস, সরাইয়া বেগম, শফিকুল ইসলাম রতন, আব্দুর রহিম, হায়দার আলী বাবলা, আনোয়ারুল আজিম, মোস্তাক আহমেদ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত