সপ্তাহখানেক আগে জানা যায়, ঈদুল আজহার পর বন্ধ হয়ে যাবে দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ মধুমিতা। সিদ্ধান্তটি জানান প্রেক্ষাগৃহটির স্বত্বাধিকারী ইফতেখার নওশাদ। তবে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষ।
চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাবেক এই সভাপতি জানান, সবশেষ নভেম্বরে হলটিতে মুক্তি পেয়েছিল ‘দরদ’ সিনেমা। এরপর দুই মাস ধরে হলটি বন্ধ রয়েছে। কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি। যার দরুন এভাবে হল বন্ধ রেখে স্টাফদের বেতন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আসছে ঈদে সিনেমা চালাবেন, এরপর চিরতরে বন্ধ করে দেবেন দেশের ঐতিহ্যবাহী এই হলটি। আর কোনোভাবেই এটা চালানো সম্ভব হচ্ছে না আমাদের পক্ষে। অন্তর্বর্তী সরকারও তো কিছু করছেন না। মাসের পর মাস লোকসান দিয়ে চালাচ্ছি। এভাবে তো চলতে পারে না।
গতকাল ইফতেখার নওশাদ বলেন, ‘আমাদের এক রকম সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। পরে আবার পরিচালনা পর্ষদের সবাই মিলে মধুমিতা নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা করেন। এরপর সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন যে, আপাতত সিনেমা হল বন্ধ করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো, তাতে যাচ্ছেন না তারা। আমরা যদি সিনেমা হল বন্ধ করি, তাহলে সংবাদ সম্মেলন করে সবাইকে জানাব।’
বলা প্রয়োজন, ৫৮ বছর আগে চালু হয় দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ মধুমিতা। গত সপ্তাহে ইফতেখার নওশাদ জানান যে, ঈদুল আজহার পর প্রেক্ষাগৃহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর সেখানে গড়ে তোলা হবে বহুতল ভবন। তবে রাখা হবে সিনেপ্লেক্স।
১৯৬৭ সালের ১ ডিসেম্বর মধুমিতা সিনেমা হলের উদ্বোধন করেছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার বিচারপতি আবদুল জব্বার খান। পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী সিরাজ উদ্দিন হলটির প্রতিষ্ঠাতা। এখন হলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজ উদ্দিনের ছেলে ইফতেখার উদ্দিন। সিরাজ উদ্দিনের চার ছেলেই হলটির মালিক এখন। মধুমিতা সিনেমা হলে একসঙ্গে বসে ১ হাজার ২২১ জন দর্শক সিনেমা দেখতে পারেন।
কুবি ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ককে মারধর পর পুলিশে দিল জনতা
জামায়াত ধান্দাবাজি ঘৃণা করে, বললেন ডা. শফিকুর