অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্বব্যাপী বিপুল সমর্থন পেয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৫৩ পিএম

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, গত ছয় মাসে বাংলাদেশ বিদেশি দেশগুলোর কাছে এই বিশ্বাস অর্জন করেছে যে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ সঠিক পথেই আছে। আমাদের বিদেশি বন্ধুদের মধ্যে সন্দেহ ছিল। তারা ভাবছিল এখানে কী ঘটছে ও এরপর কী ঘটবে? আমি বিশ্বাস করি আমরা তাদের আশ্বস্ত করতে পেরেছি বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

আজ শুক্রবার বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন।

গত ছয় মাসে বৈদেশিক সম্পর্ক সম্পর্কিত সরকারের অর্জন সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সেই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি ও বিশ্বব্যাপী বিপুল সমর্থন পেয়েছি। অর্থনীতি হোক বা রাজনীতি, দেশ সঠিক পথে এগিয়ে চলেছে এবং আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে সফলভাবে বোঝাতে পেরেছি।

উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস গত ছয় মাসে বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল আন্তর্জাতিক সমাবেশে যোগ দিয়েছেন এবং যথাযথ সম্মান অর্জন করেছেন। আমাদের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা ড. ইউনূসের বিশ্বব্যাপী ভাব-মর্যাদাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরো বলেন, বাণিজ্য এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি এগিয়ে চলেছে, যদিও অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে আমাদের রপ্তানি স্থিতিশীল রয়েছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ রেমিট্যান্সের সমস্যায় ভুগছে। কিন্তু সমস্যাগুলোও সমাধান করা হয়েছে। প্রতিটি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের লক্ষ্য এবং আমরা বিশ্বাস করি, আমরা তা সফলভাবেই করেছি।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বৈরিতার সম্পর্ক বজায় রাখার কোনও কারণ নেই। আওয়ামী লীগ শাসনামলে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক টানপোড়েনে রাখার একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রয়াস ছিল। তবে আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করেছি। পাকিস্তানও সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে এবং আমরা তা স্বাগত জানিয়েছি।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিবেচনা অনুসারে দক্ষিণ এশীয় দুটি দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে এবং এই দৃষ্টিভঙ্গির ফলে দুই দেশের মধ্যে সমুদ্র যোগাযোগ পুনরায় চালু করা উভয়ের জন্যই লাভজনক।

উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও দুই দেশের মধ্যে কিছু সমস্যা অমীমাংসিত রয়ে গেছে। তবে যদি আমরা এই বিষয়গুলিতে স্থির থাকি, তাহলে কোনও পক্ষই লাভবান হবে না। আমরা অবশ্যই আমাদের স্বার্থ রক্ষা ও পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করব। তবে একই সাথে আমরা পাকিস্তানের সাথে আমাদের সম্পর্ককে অন্য যে কোনো দেশের মতোই দেখতে চাই।

এ সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে তৌহিদ হোসেন স্বীকার করেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে অস্বস্তি বিরাজ করছে এবং এটি অস্বীকার করায় কোনও উপায় নেই।

রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পদত্যাগের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের ফলে উদ্ভূত জটিলতাগুলোকেও তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে অস্বস্তির অনুভূতি তৈরি হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা নয়াদিল্লির সঙ্গে এই অস্বস্তি দূর করার চেষ্টা করেছি।

তবে উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের সাথে এমন একটি সম্পর্ক স্থাপন করা, যা পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে এবং উভয় দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে পারে এবং সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে।

তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসের টেলিফোনে কথোপকথন এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাতসহ দ্বিপাক্ষিক আলাপচারিতা উন্নত সম্পর্কের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, কিছু বাধা আসতে পারে, এটা স্বাভাবিক। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এলে বাধা আসে। আমরা উভয় পক্ষের সুবিধার জন্য এই বাধাগুলো কাটিয়ে একটি ভাল কার্যকরী সম্পর্ক তৈরি করার লক্ষ্য রাখি বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত