নারায়ণগঞ্জ

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুন হত্যা, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিক্ষোভের পর মামলা নিল পুলিশ

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৫:১৬ পিএম

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন হোসাইনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে যুবলীগ নেতা আক্তার ও সুমনসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলার আবেদন করেন নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার।

তবে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম যুবলীগ নেতা আক্তারের নাম বাদ দিয়ে আবেদন করার জন্য নিহতের স্ত্রীকে অনুরোধ করেন। ওসির অনুরোধ না রাখায় শনিবার সন্ধা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নিহতের স্ত্রীকে থানায় বসিয়ে রাখেন ওসি।

 বিষয়টি জানতে পেরে বিএনপির নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে বিক্ষোভ করলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে ওসিকে মামলা নিতে বাধ্য করেন।

নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, আক্তার ও সুমনের পরিকল্পনায় এবং নির্দেশে তাদের বাহিনীর কিলাররা মামুনকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে ডান চোঁখে গুলি করে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ইয়াসমিন নিজেই কিছুটা দূর থেকে দেখেছেন। গুলির পর স্বামীর চিৎকার শুনে কাছে এসে সুমনকে দলবল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখেছেন।

ইয়াসমিন আক্তার আরও বলেন, বিষয়টি ওসি শরিফুল ইসলামকে বারবার চেষ্টা করেও বোঝাতে পারিনি। তার একটাই কথা আক্তারের নাম বাদ দিয়ে এজাহার দেন। এই আক্তার, সুমন ও তাদের বাবা আলাউদ্দিনের নির্দেশে কোতালেরবাগ, কুতুব আইল এলাকায় সোলায়মান, বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিনসহ একাধিক লোকজনকে খুন করেছে তাদের বাহিনীর ইবু, নয়ন, এক্সেল কামাল, জুনু মিয়া, রুবেল। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডেই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও পুলিশের সাথে সখ্যতার কারণে কখনো আক্তার, সুমন ও তাদের বাবা আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। মামুন হত্যায়ও পূর্বের ওসিদের মত বর্তমান ওসিকেও ম্যানেজ করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।

বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপের কারণে ওসি মামলা নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে ওসি বলেছেন তদন্ত ছাড়া আক্তার সুমনকে গ্রেপ্তার করবেন না। আমরাও বলেছি প্রাথমিক তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজে দেখেছেন হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা আক্তার সুমনের বাসায় প্রবেশ করেছে। এতো টুকু সত্য দিয়েই মামলা গ্রহণ করেন।

তবে এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, নিহতের স্ত্রীর দেওয়া মামলার আবেদনে প্রধান আসামি করা হয়েছে আক্তার হোসেনকে। তার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি হত্যাকাণ্ডের আগে থেকেই দেশের বাহিরে অবস্থান করছেন। তবে তার ছোট ভাই সুমন দেশেই আত্মগোপনে রয়েছে। এ জন্য নিহতের স্ত্রীকে বলা হয়েছিল যে দেশের বাহিরে রয়েছে তিনি হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকতে পারে না। তার নাম দেওয়া হলে মামলাটি দুর্বল হয়ে যাবে। এ জন্য আক্তারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভোরে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে মামুনকে গুলি করে হত্যার পর পালিয়ে যায় ঘাতকরা। হত্যাকাণ্ডের পরপরই বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেন। নিহতের পরিবারের সাথে দেখা করে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত