ভুলের পর অনুশোচনা

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:১৩ এএম

ভুল করা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। ভুল হতেই পারে। কিন্তু ভুলের পর অনুশোচনা না থাকা, সেই ভুল বা অপরাধের চেয়েও বড় অন্যায়। কেউ যখন ভুল করে অনুতপ্ত না হয়ে সেটা প্রতিষ্ঠা করতে চায় তখন তার মধ্যে মানবীয় গুণাগুণ লোপ পায়। অন্যায় করেও অপরাধবোধ অনুভব না করা, অপরাধ করেও নির্লজ্জভাবে ‘আমি কী করেছি?’ প্রশ্ন তোলা কিংবা ক্ষতি করেও তা স্বীকার না করার দোষ ভবিষ্যতে আরও বড় অপরাধ সংঘটনের আলামত উসকে দেয়। অনুতপ্ত না হওয়ার ব্যাধি ব্যক্তি পর্যায় থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় সর্বত্রই আছে। তখন মানুষ যদি ভুল স্বীকার করে তবে এমন কোনো অপরাধ নেই যার ক্ষমা পাওয়া যায় না।

কিছু অপরাধ আছে, যেগুলোর সঙ্গে কোনো মানুষের হক তথা অধিকার জড়িত থাকে। সেসব ক্ষেত্রে বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমা না করবে ততক্ষণ আল্লাহও ক্ষমা করবেন না। কাউকে কষ্ট দেওয়া, কাউকে ঠকানো কিংবা কারও কাছে ঋণ থাকা, এসবের ক্ষমা ভুক্তভোগী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকেই পেতে হবে। অপরাধ করে এবং অন্যায় হয়েছে জেনেও যাদের মধ্যে অনুশোচনা বোধ জাগ্রত হয় না তারা মানব নয় বরং দানব। তারা যেকোনো অন্যায় অনায়াসে করতে পারে। যারা অনুতপ্ত হয়, ক্ষমা চায় তাদের ক্ষমা করা মাহাত্ম্যপূর্ণ গুণ। কিন্তু যারা অন্যায় করেও তা জায়েজ করার জন্য যুক্তি দেয়, তাদের ক্ষমা করলে আরও বড় বড় ক্ষতির মধ্যে পতিত হতে হবে।

মানবীয় গুণাবলির মধ্যে ক্ষমা মহত্তম গুণ। তবে যিনি ক্ষতিগ্রস্ত কেবল তার কাছ থেকেই ক্ষমা পেতে হবে। অপরাধ করে যারা অপরাধবোধে ভোগে তাদের মাফ না করলে মানবিকতা ক্ষুণœ হয়। অপরাধ করেও যাদের মধ্যে অন্যায়বোধ জাগে না, নত হওয়া প্রয়োজন মনে করে না কিংবা নমনীয়ভাবে কথা বলে না, তারা সমাজ-সংসারের সম্যক অশান্তির কারণ। তাদের সংস্পর্শে থাকলে অন্যরাও শান্তি পায় না। নিজেকে বিচার করার, কাজ মূল্যায়ন করার মানদণ্ড যার কাছে নেই, সে পশুর চেয়েও অধম হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ সবাইকে বোঝার তওফিক দান করুন। ভুলের পর অনুশোচনা ও অনুতপ্ত হওয়ার মানসিকতা সবার মধ্যে থাকুক। এটা আমাদের বড় বড় ভুল থেকে রক্ষা করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত