‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে না ডাকায় অনেক ভুক্তভোগীর ক্ষোভ

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:২১ পিএম

কিছু গণমাধ্যম ও ভুক্তভোগীদের নিয়ে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার আগারগাঁও, কচুক্ষেত ও উত্তরায় অবস্থিত তিনটি গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেন তিনি।

পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)-এর কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বলে জানানো হয়েছে।

গত ১৫ বছরে গুমের শিকার ব্যক্তিদেরকে ওইসব বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। গোপন এসব বন্দিশালা পরিদর্শনের সময় সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টাও ছিলেন অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে।

তাদের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজেরা যেসব ‘আয়নাঘরে’ বন্দি ছিলেন, সেগুলো চিহ্নিত করেন।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা গোলাম আযমের ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী উপদেষ্টাদের সঙ্গে ছিলেন। জামায়াতের আরেক প্রয়াত নেতা মীর কাশেম আলীর ছেলে আহমেদ বিন কাশেমও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

তবে এই সফরে সঙ্গী হিসেবে ডাক পায়নি আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’। ‘সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। এটা খুবই দুঃখজনক,’ বলছিলেন প্ল্যাটফর্মটির সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম।

সানজিদা বলেন, ‘আমরা তাদেরকে জানাইছিলাম যে, বারো-তের বছর ধরে যারা আন্দোলন করছে ভিকটিম পরিবারের, তাদের একজন প্রতিনিধি সেখানে থাকা দরকার। কিন্তু সেটা না করে তারা পছন্দমত কিছু লোক নিয়ে গেছে।’

একইভাবে পরিদর্শনের বিষয়ে জানতেন না আলোচিত আরেক ভুক্তভোগী মাইকেল চাকমা। ‘আজকে যে তারা যাবে, সে ব্যাপারে আমাকে কিছুই বলা হয়নি। আমি জানতে পারছি আজকে সকালে মায়ের ডাকের কাছ থেকে। তারপর মিডিয়ায় নিউজ দেখলাম,’ বলছিলেন পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ‘আয়নাঘরে’ নামক গোপন বন্দিশালায় আটক থাকা মাইকেল।

পার্বত্য চট্টগ্রামকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংগঠন ‘ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টে’র (ইউপিডিএফ) এই নেতা বলছিলেন, বুধবার তিনি সশরীরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে পারলে গুম কমিশনকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রমাণ জোগাড়ে সহায়তা করতে পারতেন।

‘ছবি দেখেই আমি কিছু জায়গা চিনতে পারছি। আমাকে যদি বলতো, আমি দেখিয়ে দিতে পারতাম কোন জায়গায় কী ছিল, কী ঘটেছিল। কিন্তু আমার সঙ্গে তো কেউ যোগাযোগ করে না,’ বলছিলেন তিনি।

ইউপিডিএফের এই নেতাকে ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল ঢাকার শ্যামলী এলাকা থেকে সাদা পোশাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনার পতনের পরদিন, অর্থাৎ ৬ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি রাস্তার পাশে তাকে চোখ বেঁধে ছেড়ে দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত