টিকটক কিনছেন না ইলন

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০৮ এএম

জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক কিনতে আগ্রহী নন এমনটাই জানিয়েছেন ইলন মাস্ক। ২৮ জানুয়ারি ‘ওয়েল্ট ইকোনমিক সামিট’-এর এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এমন কথা বলেছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান। জার্মান মিডিয়া কোম্পানি ‘অ্যাক্সেল স্প্রিংগার’-এর মালিকানাধীন ‘ওয়েল্ট গ্রুপ’-এর অনলাইনে প্রকাশিত এক ভিডিওতে মাস্ক বলেছেন, ‘আমি টিকটকের জন্য কোনো বাজি ধরিনি। যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক থাকলে আমি কী করব তা নিয়ে আমার কোনো পরিকল্পনাও নেই।’ চীনা মালিকানাধীন এই অ্যাপটির মাসিক ব্যবহারকারী প্রায় ১৭ কোটি আমেরিকান। জাতীয় নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ জানুয়ারি নিষিদ্ধ হওয়ার কথা ছিল টিকটকের। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭৫ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে টিকটকের মূল কোম্পানি বাইটড্যান্সকে শেষ মুহূর্তের জন্য দেশটিতে টিকিয়ে রাখেন। টিকটককে চীনের বাইরে কোনো ক্রেতা খুঁজে পেতে সময় দেন ট্রাম্প, যা গত এপ্রিলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের স্বাক্ষরিত বিলের একটি প্রধান শর্ত। ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল ‘প্রটেকটিং আমেরিকানস ফ্রম ফরেন অ্যাডভারসারি কন্ট্রোলড অ্যাপলিকেশন অ্যাক্ট’ নামের একটি বিলে সই করে তা আইনে পরিণত করেন বাইডেন। এ আইনে চীনা মূল কোম্পানি বাইটড্যান্স টিকটকে তাদের অংশীদারত্ব ছয় মাসের মধ্যে কোনো আমেরিকান কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেবে, নয়তো যুক্তরাষ্ট্রে এই অ্যাপ নিষিদ্ধ হবে। এদিকে প্ল্যাটফর্মটি বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই বলে বারবার জানিয়েছে বাইটড্যান্স। তবে এরই মধ্যে কিছু বিনিয়োগকারী টিকটক কিনতে আগ্রহী বলে প্রতিবেদনে লিখেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

জানুয়ারিতে এক পোস্টে অ্যাপটি কেনার কথা জানিয়েছেন ইউটিউব ও টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার জিমি ডোনাল্ডসন বা মিস্টারবিস্ট। ‘শার্ক ট্যাঙ্ক’ তারকা কেভিন ও’ লিয়ারি ও লস ‘অ্যাঞ্জেলেস ডজার্স’-এর সাবেক মালিক ফ্র্যাঙ্ক ম্যাককোর্টও টিকটক কেনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে ক্রেতাদের মধ্যে অন্যতম চমক হিসেবে ভাবা হচ্ছিল বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাস্ককে।

২০২২ সালে চার হাজার চারশ কোটি ডলারে টুইটার কেনেন মাস্ক। এরপর প্ল্যাটফর্মটির নাম বদলে এক্স রাখেন। তবে টিকটকের বিষয়ে মাস্ক জানিয়েছেন, এসব প্রযুক্তি কোম্পানি অধিগ্রহণ করার মতো কেউ নন তিনি। টুইটার অধিগ্রহণের কারণ হিসেবে মাস্ক বলেছেন, ‘আমেরিকাতে বাকস্বাধীনতা রক্ষা করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তাই কিনেছি।’ তবে তিনি নিশ্চিত নন যে এই ‘একই যুক্তি টিকটকের বেলাতেও প্রযোজ্য কি না।’ ‘আমি কেবল অর্থনৈতিক কারণেই জিনিসপত্র কিনি না। অর্থনীতির বাইরে টিকটক কেনার উদ্দেশ্য কী হবে তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়,’ বলেন মাস্ক। ‘ওয়েডবুশ সিকিউরিটিজ’-এর বিশ্লেষক ড্যান আইভস বলেছেন, অ্যালগরিদম ছাড়া টিকটকের মার্কিন সম্পদের আনুমানিক মূল্য চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অ্যাপটির মূল্যের বেশিরভাগই অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এর ওপর ডলারের অঙ্ক নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত