ঢাকার ধামরাইয়ের আলাদিন পার্কে পিকনিকে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পার্কের স্টাফ ও এলাকাবাসীর সংঘর্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে হাসান আল মুত্তাহিদ নামে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি আছে। গত বুধবার রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার পরিদর্শক (ওসি) মনিরুল ইসলাম। এর আগে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের সীতি এলাকায় অবস্থিত আলাদিন পার্কের ভেতরে এবং বাইরে এ ঘটনা ঘটে।
মিরপুর বনফুল গ্রিনহার্ড আদিবাসী কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাকিদুল ইসলাম বলেন, আমরা কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৬০০ জন পিকনিকে এসেছি ধামরাইয়ের আলাদিন পার্কে। ওয়াটার পার্কের লকারে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ চুরির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে পার্ক কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ না দেখে উত্তেজিত কয়েকজন শিক্ষার্থী পার্কের কয়েকটি গ্লাস ও চেয়ার ভেঙে ফেলে। পরে আমরা পার্কের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হই এবং বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ পার্কের লোকজন ও এলাকাবাসী এসে শিক্ষার্থীদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। মেয়ে শিক্ষার্থীরা দৌড়ে গাড়িতে উঠে বসলে তাদের ওপরও হামলা চালায় এবং আটটি বাস ভাঙচুর করে। পার্কের মালিকের ছেলে ও ম্যানেজারের নেতৃত্বে পার্কের স্টাফসহ স্থানীয় এলাকাবাসী আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর এ হামলা করে। রিপন হালদার নামে আমাদের এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং হাসান আল মুত্তাহিদ নামে কলেজ শাখার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছে।’
মিরপুর বনফুল গ্রিনহার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা মরিয়ম জামিলা বলেন, ‘বহিরাগত লোক ডেকে এনে পার্কের লোকজন মিলে আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের সাত-আটজন হাসপাতালে ভর্তি আছে। প্রায় ১৬ জন শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক আহত হয়েছেন। পার্কের লোকজনের হাতে লোহার রড, বাঁশের লাঠি, কাঠ দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
পার্কের মালিকের ছেলে ও পার্কের ডিরেক্টর রিফাত হোসেন বলেন, ‘প্রথমে একজন শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন হারানো গেছে- এমন শোনা যায়। পরে শিক্ষার্থীরা ওয়াটার পার্কের যে কয়জন স্টাফ ছিলেন, তাদের মারধর করে এবং ভাঙচুর করে। পরে আমাদের লোকজনও তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে স্থানীয় লোকজন এসেও শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয় গাড়ি ভাঙচুর করে। উভয় পক্ষের লোকই আহত হয়েছে।’
