ভবিষ্যতে ভারতে এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার যুদ্ধবিমান সরবরাহসহ চলতি বছর থেকে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, আমরা ভারতের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি কয়েক বিলিয়ন ডলার বাড়াব। এ ছাড়া শেষ পর্যন্ত ভারতকে এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার দেওয়ার পথ তৈরি করছি। তিনি এফ-৩৫ সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি, তবে সাধারণত এমন উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র বিক্রির চুক্তি সম্পন্ন হতে কয়েক বছর লেগে যায়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, যার আওতায় ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে তেল ও গ্যাস আমদানি করবে। এর ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমবে।
তিনি আরও বলেন, 'ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি একসঙ্গে কাজ করবে চরমপন্থী ইসলামি সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবিলা করতে।
এফ-৩৫ জেটের নির্মাতা সংস্থা লকহিড মার্টিন ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। সাধারণত এফ-৩৫-এর মতো যুদ্ধবিমান বিক্রি সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে হয়, সেখানে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে।
ভারত ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম কিনেছে। গত বছর, ভারত ৩১টি এমকিউ-৯বি সি গার্ডিয়ান ও সি গার্ডিয়ান ড্রোন কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা ছয় বছরের আলোচনার পর চূড়ান্ত হয়।
মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ভারত আগামী দশ বছরে সামরিক আধুনিকায়নের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করবে। লকহিড মার্টিন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, তুরস্ক, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, ইসরায়েল, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও বেলজিয়ামসহ বেশ কয়েকটি মিত্র দেশের জন্য তিনটি মডেলের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান তৈরি করছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আমদানিকারক দেশ এবং তার প্রধান সরবরাহকারী ছিল রাশিয়া। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার অস্ত্র রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে, ফলে ভারত তার প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে।
রাশিয়া ভারতের জন্য সু-৫৭ পঞ্চম-প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার জেট ভারতে উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে, যা ভারতের বিমানবাহিনীর জন্য তৈরি করা হবে। একজন রুশ ও একজন ভারতীয় কর্মকর্তা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, মস্কো নয়াদিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে এই উদ্যোগ নিচ্ছে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মোদি বলেন, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি শিগগিরই হবে বলে। এ সময় তিনি তেল ও গ্যাসের ওপর গুরুত্ব দেন। শুল্কে ছাড়, নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি এবং চীনের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা বাণিজ্য যুদ্ধ রুখে দিতে পারে বলে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন মোদি।