২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত সবার পরোয়ানা প্রত্যাহারের (রিকল) আদেশ দিয়েছে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। গতকাল সোমবার আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি আব্দুর রশিদ মোল্লা দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আদালত স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে এ আদেশ দিয়েছে। ছয় বছরের বেশি সময় আগে ২১ আগস্ট মামলার রায়ে ১৯ জনকে মৃত্যুদন্ড ও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছিল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। তারেক রহমানসহ যাদের পলাতক দেখিয়ে সাজার রায় হয়, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। গত বছরের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ মামলায় অধস্তন আদালতের রায়কে অবৈধ বলে বাতিল করে তারেক রহমানসহ সাজাপ্রাপ্ত সবাইকে খালাস দেয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রশিদ মোল্লা বলেন, ‘ফৌজদারি মামলার বিচারের সময় আসামি অনুপস্থিত থাকলে পলাতক দেখিয়ে বিচার ও রায় হয়। যাদের সাজা হয় তাদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি হয়। এ মামলায় যাদের অনুপস্থিতিতে সাজার রায় হয়েছিল, তাদের সবার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। উচ্চ আদালতের রায়ে তারা খালাস পেয়েছেন। রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিচারিক আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পরোয়ানাগুলো রিকল করেছে, যাতে পরোয়ানাগুলো দ্রুত ফেরত আসে।’
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহতের ঘটনার মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন (পরে হাইকোর্টের বিচারপতি ও কিছুদিন আগে পদত্যাগ)। রায়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদ- এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন) তারেক রহমান, বিএনপি নেতা শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়। ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদন), সাজাপ্রাপ্তদের আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত বছরের ১ ডিসেম্বর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রায়ে সব আসামিকে খালাসের আদেশ দেয়।
