জয়ে ফিরল মোহামেডান

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৫৯ এএম

প্রায় এক মাস পর মাঠে গড়িয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। সেটাও বিশেষ একটা কারণে। লিগের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে মধ্যবর্তী দলবদল চলাবস্থায়। মূলত জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতে বাফুফে বিশেষ ব্যবস্থায় দশম রাউন্ড আয়োজন করছে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা মোহামেডান প্রথম পর্বের শেষ রাউন্ডে হোঁচট খেয়েছিল। ফকিরেরপুলের কাছে হারে থেমেছিল তাদের টানা আট ম্যাচ জয়যাত্রা। শুক্রবার সেই হারের ধাক্কা সামলে জয়ে ফিরেছে মোহামেডান। প্রথম পর্বের শুরুর ম্যাচে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ৬-০ গোলে হারিয়েছিল সাদা-কালোরা। কুমিল্লায় নিজেদের মাঠ শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ফিরতি লড়াইয়ে মোহামেডান জিতেছে ৩-০ ব্যবধানে। দিনের অপর দুই ম্যাচের একটি হয়েছে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়। যে ম্যাচে ৩-১ গোলে রহমতগঞ্জকে হারিয়েছে স্বাগতিক ফর্টিস এফসি। আর বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার ব্রাদার্সের হয়ে অভিষেক সুখকর হয়নি। ময়মনসিংহে পুলিশের কাছে তার দল হেরেছে ১-০ গোলে।

১০ খেলা ৯ জয়ে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে মোহামেডান অনেকটাই এগিয়ে গেছে। এপ্রিলে পরের রাউন্ডে তাদের মুখোমুখি হতে হবে টানা পাঁচবারের লিগজয়ী বসুন্ধরা কিংসের। অন্যদিকে ওয়ান্ডারার্সকে চার পয়েন্ট নিয়ে থাকতে হচ্ছে অবনমন অঞ্চলে।

ম্যাচের শুরু থেকেই প্রাধান্য বিস্তার করতে দেখা গেছে মোহামেডানকে। বড় সময়ের বিরতির প্রভাব দেখা যায়নি আলফাজ আহামেদের দলের খেলায়। আক্রমণাত্মক ফুটবলে তারা চেয়েছে শুরুতেই গোল আদায় করতে। তবে তাদের গোলের অপেক্ষা ফুরায় ৩৮ মিনিটে। মোজাফফরভের অসাধারণ ফ্রি-কিকে এগিয়ে যায় মোহামেডান। বক্সের বাঁ দিকে বেশ দূর থেকে ডান পায়ের জোরালো ফ্রি-কিকে কাছের পোস্টে বল জমা করেন উজবেক প্লে-মেকার। ওয়ান্ডারার্সের গোলকিপার শাকিল বুঝতেই পারেননি। এগিয়ে যাওয়ার পর মোহামেডান চেষ্টা করেছে ব্যবধান বড় করার। তবে ওয়ান্ডারার্স প্রথম পর্বের মতো মোহামেডানকে রক্ষণভাগ আলগা করে দেয়নি। তাই সাদা-কালোদের দ্বিতীয় গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয় অনেকটাই। ম্যাচের ৮১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান বদলি ফরোয়ার্ড রহিম উদ্দিন। আরেক বদলি স্ট্রাইকার সৌরভ দেওয়ানের আড়াআড়ি পাসে ডান পায়ের প্লেসিংয়ে গোল করেন রহিম। এর আগে রাজু আহমেদ জিসানের ডান দিক থেকে আসা ক্রসে মোজাফফরভ হেড করেছিলেন। যা ওয়ান্ডারার্সের এক ডিফেন্ডার ব্লক করলেও বল পেয়ে যান সৌরভ। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে মোজাফফরভের লম্বা থ্রু দ্রুত ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে সুলেমান দিয়াবাতেকে কাটব্যাক দেন সৌরভ। ধীরেসুস্থে গোলমুখ থেকে গোলের আনুষ্ঠানিকতা সারেন মোহামেডান অধিনায়ক। মালির এই ফরোয়ার্ডের এটি লিগে সপ্তম গোল।

বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় দিনের অপর ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত রহমতগঞ্জকে বড় হার বরণ করতে হয়েছে। পেনাল্টির সুযোগ হাতছাড়া করার মধ্য দিয়ে শুরু হয় কামাল বাবুর দলের। ২৩ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সেরা সুযোগ নষ্ট করেন রহমতগঞ্জের ঘানাইয়ান ডিফেন্ডার মামুদ ওসি। স্যামুয়েল বোয়েটাংকে বক্সের ভেতরে বিপজ্জনকভাবে ফাউল করে রহমতগঞ্জকে পেনাল্টি উপহার দিয়েছিলেন ফর্টিসের গোলকিপার সারোয়ার জাহান। তবে সে যাত্রায় সারোয়ারই ত্রাতার ভূমিকা নেন মামুদ ওশির স্পটকিক রুখে দিয়ে। সে যাত্রায় বেঁচে যাওয়া ফর্টিস পরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ৩৮ মিনিটে ইউক্রেনের ফরোয়ার্ড ভ্যালেরি হাইসিনের চোখ ধাঁধানো ফ্রি-কিক গোলে। গাম্বিয়ান পা ওমর বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক আদায় করে নিয়েছিলেন। তা থেকে ভ্যালেরির বাঁ পায়ের ফ্রি-কিকে মানব দেয়ালের ওপর দিয়ে বাঁক খেয়ে বোকা বানান রহমতগঞ্জ কিপার আহসান হাবিব বিপুকে। বিরতির পরেই ব্যবধান বাড়ে ফর্টিসের। তাদের পেনাল্টি উপহার দেন রহমতগঞ্জ ডিফেন্ডার আলফাজ মিয়া। বক্সের ভেতর তিনি পা ওমর বাবুকে ফেলে দেন। পেনাল্টি থেকে এই গাম্বিয়ানই ব্যবধান বাড়ান। ৫৪ মিনিটে গোল করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল রহমতগঞ্জ। বাঁ দিক থেকে কিরণের মাপা ক্রস এক ড্রপে চলে আসে স্যামুয়েল বোয়েটাংয়ের কাছে। বুক দিয়ে সেটা নামিয়ে ছোট ডি-বক্স থেকে ডানপায়ের ভলিতে গোল করেন ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার। চার ম্যাচ পর গোল পেলেন প্রথম পর্বে জোড়া হ্যাটট্রিক করা থেকে প্রথম পর্ব শেষ করা স্ট্রাইকার। এ নিয়ে ১১ গোল করে তিনিই আছেন গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে।

ফর্টিসকে নিশ্চিন্ত করতে ম্যাচের শেষ সময়ে গোল করেন পা ওমর বাবু। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে একটা ফ্রি-কিক রুখে দিয়েছিলেন রহমতগঞ্জ কিপার আহসান হাবিব অপু। তবে তার গোলকিকের পর ডিফেন্ডারদের অসতর্কতায় তৃতীয় গোল হজম করে রহমতগঞ্জ। পা ওমর বাবু হঠাৎ ডান দিক দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শট নেন। রহমতগঞ্জের এক ফুটবলারের পায়ে লেগে দিক বদলে বল দূরের পোস্টে জড়িয়ে যায়। এই জয়ে অবশ্য পয়েন্ট টেবিলের অবস্থানে নড়বড় হয়নি ফর্টিসের। ১০ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ফর্টিসকে থাকতে হচ্ছে ছয়েই। আর আগের ১৫ পয়েন্ট নিয়ে রহমতগঞ্জ আছে চারেই।

ময়মনসিংহে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান দানিলো আগুস্তোর লক্ষ্যভেদে পুলিশ পেয়েছে লিগে চতুর্থ জয়ের দেখা। ব্রাদার্স একাদশে জায়গা করে দিয়েছিল মধ্যবর্তী দলবদলে যোগ দেওয়া বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে। তবে জামাল অভিষেকটা জয়ে রাঙাতে পারেননি। সাতে থাকা পুলিশের সংগ্রহ এখন ১৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে ব্রাদার্স আগের ১৫ পয়েন্ট নিয়ে আছে পাঁচে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত