চলন্ত বাসে ডাকাতি, ৩ দিন পর মামলা

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:২০ এএম

চলন্ত বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় গতকাল শুক্রবার ভোরে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর থানার ওসি মোশারফ হোসেন। ডাকাতির শিকার ওমর আলী নামের এক ভুক্তভোগী এই মামলার বাদী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তবে ডাকাতির ঘটনাটি গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন এলাকা থেকে শুরু হয়ে একই জেলাধীন আশুলিয়া থানাধীন এলাকায় শেষ হলেও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার গাবতলী থেকে ছেড়ে যাওয়া রাজশাহীগামী ইউনিক রোড রয়েলস (রেজিস্ট্রেশন নম্বর-ময়মনসিংহ-ব-১১-০০৬১) নামের একটি বাসে এই ঘটনা ঘটে।

ডাকাতির কবলে পড়া ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, সোমবার রাত ১২টার পর গাবতলী থেকে বাসটি ছেড়ে আমিনবাজার ও বাইপাইল থেকে বেশ কিছু যাত্রী ওঠায়। সর্বশেষ গাজীপুরের চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ড থেকে আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী ওঠে। এরপর বাসটি রাজশাহীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করার ১০ মিনিটের মধ্যে আট থেকে নয়জনের একটি ডাকাত দল বাসের লাইট বন্ধ করে সবাইকে জিম্মি করে লুণ্ঠন শুরু করে। সে সময় ডাকাতদের একজন বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বাসটি বেশ কিছুক্ষণ চলার পর উল্টোদিকে টার্ন নেয়। প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় নিয়ে যাত্রীদের সবকিছু লুট করে বাসটি গাজীপুরের আশুলিয়া থানাধীন নন্দন পার্কসংলগ্ন এলাকায় থামিয়ে ডাকাতরা চলে যায়। পরে বাসের ড্রাইভার বাসটি ছাড়তে না চাইলেও যাত্রীদের চাপে বাসটি টাঙ্গাইলের দিকে রওনা দেয়। সামনেই মির্জাপুর থানা অবগত হয়ে ভুক্তভোগীরা মির্জাপুর থানায় ঘটনাটি জানাতে যায়। ওই সময় ঊর্ধ্বতন কেউ না থাকায় ডিউটি অফিসার তাদের অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু বাসটি মহাসড়কে থাকায় অন্য যাত্রীদের তাড়াহুড়োয় তারা অপেক্ষা না করে চলে যান। রাজশাহী পৌঁছে বাসযাত্রীদের কয়েকজন বাসটি নাটোরের বড়াইগ্রাম থানায় ঢোকান। সেখানকার পুলিশ বাসচালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে।

ডাকাতের কবলে পড়া বাসের যাত্রী মো. সোহাগ হাসান বলেন, ডাকাত দলের সদস্যদের মধ্যে দুজনের হাতে রিভলবার সাদৃশ্য অস্ত্র ও বাকিদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। ডাকাতরা বাসের অন্তত পাঁচজন যাত্রীকে হাতে ও বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আহত করে। তার দুই সিট সামনে বসা দুই নারী যাত্রীর স্বর্ণালংকার লুট করে। তবে ওই বাসে কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।

মামলার বাদী ওমর আলীর ভাষ্য, এই ঘটনার সঙ্গে বাসের স্টাফরা জড়িত থাকতে পারে। ডাকাতি শুরুর আগে ডাকাতদলের দুই সদস্যের সঙ্গে বাসের হেলপারের গোপন আলাপ আলোচনা হয়েছে। আমি ডাকাতি হওয়া টাকা ফেরত চাই, যারা নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানি করেছে তাদের বিচার চাই।

টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর অংশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বলে ভুক্তভোগীদের কয়েকজন জানিয়েছেন। তাই আমরা মামলা নিয়েছি। আমাদের টিম কাজ করছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পারব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত