শিশুর কৃমি সংক্রমণ কেন হয়

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:১৭ এএম

কৃমি এক ধরনের পরজীবী কীট। কৃমি হলে শিশুর খাবারের রুচি কমে যায়। ওজন বাড়ে না। সে যা খায়, তার এক-তৃতীয়াংশই কৃমি খেয়ে ফেলে। শিশু রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত হয়। একটা কৃমি প্রতিদিন শরীর থেকে শূন্য দশমিক ১ মিলিলিটার রক্ত শোষণ করে থাকে। শুধু কৃমির কারণেই দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ শিশু রক্তস্বল্পতায় ভোগেন।

কারণ : সংক্রমিত শিশু অন্য শিশুর সংস্পর্শে এলেও কৃমির সংক্রমণ ঘটে। বাচ্চাদের পরিধেয় প্যান্ট যদি ফুটানো বা সাবান পানিতে না ধোয়া হয়, তাহলে কৃমি সংক্রমণ রোধ করা কঠিন। শিশুকে খাওয়ার আগে হাত ঠিকভাবে ধোয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। ময়লা হাত, অনিরাপদ পানি, বাসি ও খোলা খাবার থেকেও কৃমি সংক্রমণ হয়। খালি পায়ে মাটিতে হাঁটলেও কৃমি সংক্রমণ হয়।

লক্ষণ : মলদ্বারে ঘন ঘন চুলকানি এবং অস্বস্তি, বিশেষত রাতে মলদ্বারের এলাকায় অস্বস্তিতে ঘুমের সমস্যা হয়, মলদ্বারের চারপাশে র‌্যাশ বা ত্বকের জ্বালা, মলদ্বারে কৃমি দেখা, নির্দিষ্ট সময়ে পেটে ব্যথা, খাওয়ায় অরুচি, অস্থিরতা। এ ছাড়া প্রচন্ড মাথাব্যথা, দীর্ঘমেয়াদি কাশি, চোখে চুলকানি, রক্তস্বল্পতা, লিভারে সমস্যা প্রভৃতি।

প্রতিকার : খাওয়ার আগে শিশুর হাত ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, পানি ফুটিয়ে পান  করা, বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার শিশুকে না খাওয়ানো এবং খাবার ঢেকে রাখা, দুই বছর বয়স থেকে প্রতি ছয় মাস পর পর শিশুকে ও পরিবারের সবাই কৃমির ওষুধ খাওয়া।

জেনে রাখুন : প্রতি ছয় মাস পরপর পরিবারের সবাই ১টি অ্যালবেনডাজল বড়ি সেবন করা। মেবেনডাজল হলে খেতে হবে পরপর তিন দিন। সাত দিন পর আরেকটা ডোজ খাওয়া। শিশুদেরও একইভাবে সিরাপ খাওয়ানো। দুই বছরের কম বয়সী শিশুকে খাওয়াতে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। গরমকালে কৃমিনাশক খাওয়া যাবে না, এই ধারণারও কোনো ভিত্তি নেই। 

কৃমিনাশক ওষুধ নিরাপদ। এর তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত