দ্রুত নির্বাচন দিন, না হয় কঠোর আন্দোলনে নামব: সোহেল

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:১৭ পিএম

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল সরকারের উদ্দেশে বলেনে, নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করবেন না। কোটি কোটি তরুণ ভোটার এখনও ভোট দিতে পারেনি। আপনাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয় জঙ্গি-ভূত আপনাদের ওপর ভর করেছে। রগ কাটারা আপনাদের ওপর ভর করেছে। সুতরাং ভোট নিয়ে কোনও টালবাহানা এই দেশের জনগণ সহ্য করবে না। অতি দ্রুত নির্বাচন দিন, নচেৎ কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।

দীর্ঘ ১৯ বছর পর আজ সোমবার বিকেলে রাঙামাটিতে শহীদ আবদুস শুক্কুর স্টেডিয়ামে বিএনপির জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০০৬ সালে ১২ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি স্টেডিয়ামে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে সর্বশেষ জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অনেক ছাত্র ভাই মনে করেন, সব তারাই করেছেন। আসলে বয়স কম তো তাই বোঝে না। ১৫ দিনে তারা সব করে ফেলেছে মনে করে। তারা তো এসেই গরম ভাত পেয়েছে। কিন্তু ভাত তৈরি করতে যে কত কষ্ট। চারা রোপণ থেকে শুরু আরো কত কি করতে হয়, তাতো তারা বুঝে না। বিগত ১৬ বছর তিল তিল করে কষ্ট করে যে আন্দোলন বিএনপি তৈরি করেছিল, সেই আন্দোলনের ওপর ভর করেই ছাত্ররা আন্দোলন করেছে।

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগেও আমাদের সভা করতে দেয়নি। পারমিশনের জন্য ঘুরাঘুরি করে শেষ পর্যন্ত জানা যায় হাসিনার পারমিশন নাই। তারপরেও দুয়েকটার অনুমতি মিলেছে, তাও পুলিশের তল্লাশি চলতো সবখানে। মোবাইল চেক করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে যাকে পেত নিয়ে যেত। এক নেতা বলতো খেলা হবে, খেলা হবে। তার খেলা হবে শুনে ভাবতাম ফুটবল, ক্রিকেট, হাডুডু খেলা বুঝতাম। কিন্তু পরে দেখি এটা অস্ত্রের খেলা। এই খেলা আমরা খেলি না। সেই খেলোয়াড়রা এখন কোথায়। সব খেলোয়াড় লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেছে। আর ফিরতে পারবে না।

প্রধান অতিথি বলেন, ১৬ বছরে শেখ হাসিনা-শেখ রেহেনা দেশ ফুতুর করে দিয়েছেন। শেখ হাসিনা দেশ চালিয়েছেন আর শেখ রেহেনাকে টাকা না দিয়ে কোনো ব্যবসায়ী ব্যবসা চালাতে পারেননি। শেখ পরিবার হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবার। অনেকেই বলেন, আপা আসবে। আমরাও বলি আপা আসুক। আসার আগে জনগণের সব টাকা ফেরত দিক। আর তাকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে জেলে দিক।

জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক(চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহাবুবের রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) হারুনুর রশীদ (ভিপি হারুন), কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সহ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, কেন্দ্রীয় বিএনপির উপজাতি বিষয়ক সহ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ান, প্রাক্তন সাংসদ ও উপমন্ত্রী মনি স্বপন দেওয়ান। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ এবং উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত