বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় অধস্তন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মুনতাসির আল জেমি কারাগার থেকে পালিয়েছে বলে হাইকোর্টকে অবহিত করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গত বছর ৬ আগস্ট এ ঘটনা ঘটলেও গতকাল সোমবার তা জানা যায়।
কারাগার থেকে জেমির পালানোর বিষয়ে আলোচিত এ মামলায় হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জসিম সরকার দেশ রূপান্তরকে গতকাল বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে অনেক আসামি পালিয়ে যায়। আসামি জেমি ছিলেন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে। তিনি ৬ আগস্ট সেখান থেকে পালান। বিষয়টি এ মামলার প্রথম দিনের (গত বছর ২৮ নভেম্বর) শুনানিতে আমরা হাইকোর্টকে অবহিত করেছি।’
এদিকে আবরার হত্যা মামলায় অধস্তন আদালতের দেওয়া ফাঁসির আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয়েছে। মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছে হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে মর্মে তা অপেক্ষমাণ রাখেন। শুনানি গ্রহণ শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিম সরকার। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির প্রমুখ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জসিম সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আবরার হত্যা মামলায় উভয়পক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। হাইকোর্ট যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন।’
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায় ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া কেন্দ্র করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় হত্যা মামলা হয়। তদন্ত শেষে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ওই মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়। পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
