তিন শিশুর মা কারাগারে, ব্যাখ্যা দিতে দুই বিচারককে তলব

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:২২ এএম

অর্থ ঋণের মামলায় মাসহ তিন শিশুকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ব্যাখ্যা জানতে ফরিদপুরের দুই বিচারকসহ তিনজনকে তলব করেছে উচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের হাইকোর্ট এ আদেশসহ রুল দেয়।

যাদের তলব করা হয়েছে তারা হলেন, ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম এ সাঈদ, জেলার অর্থঋণ আদালতের বিচারক এ কেএম রকিবুল হাসান এবং স্থানীয় ব্র্যাক ব্যাংকের এসএমই শাখার ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার)। আগামী ৬ মার্চ তাদের স্বশরীরে হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়েছে আদেশে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তপতী দাস। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মঞ্জুর আলম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট এ এম জামিউল হক ফয়সাল।

রিট আবেদনে বলা হয়, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ছোলনা গ্রামের আমিন শেখ পোলট্রি খামারের জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের স্থানীয় শাখা থেকে ২০২২ সালের ২০ অক্টোবর ৩০ লাখ টাকা ঋণ নেন। পরের বছর ১২ জানুয়ারি আমিন শেখ মারা যান। একপর্যায়ে আমিন শেখের ঋণ খেলাপি ঘোষণা করে তা আদায়ে মৃতের স্ত্রী মোছা. পপি খাতুন ও তার তিন শিশু সন্তানকে আসামি করে আদালতে মামলা করে ব্র্যাক ব্যাংক। এই মামলায় পপি খাতুনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ঋণের ২৫ লাখ টাকা পরিশোধের ডিক্রি (রায়) দিয়ে আমিন শেখের পরিবারকে ৪৫ দিনের মধ্যে এ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন বিচারক এ কেএম রকিবুল হাসান।

নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় গত বছরের ২০ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

অ্যাডভোকেট তপতী দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরোয়ারা জারির পর পপি খাতুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে হাজির করা হলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তিন শিশুর মাকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে সমালোচনা শুরু হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত