দ্বিতীয় ধাপে ইসরায়েলের ৪ শর্ত

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৪৭ এএম

দীর্ঘ ১৫ মাসের সংঘাত শেষে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। তিন ধাপের এই যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায় শেষের পথে। এ পর্বে ৩৩ জন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা হামাসের। তার বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেওয়ার কথা তেল আবিবের। তবে সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ৬২০ ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি স্থগিত করায় গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। যদিও স্থগিত হওয়া

ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সুরাহা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হামাস। তবে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনায় ৪টি শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইসরায়েল। যদি এই চার শর্ত পূরণ না হয়, সেক্ষেত্রে চুক্তির প্রস্তাবিত ২য় পর্যায় শুরুর ব্যাপারটি পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী এবং যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এলি কোহেন।

মঙ্গলবার ইসরায়েলি টিভি চ্যানেল কান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোহেন বলেন, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের ৪টি শর্ত রয়েছে। হামাসের কাছে থাকা সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে। উপত্যকাটির শাসক গোষ্ঠী হামাসকে গাজা থেকে বিদায় নিতে হবে এবং গাজাকে অবশ্যই সম্পূর্ণ অস্ত্রমুক্ত করতে হবে। সেই সঙ্গে পুরো গাজা এলাকায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে।

গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে হামাস ও তার মিত্রগোষ্ঠী প্যালেস্টানিয়ান ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধারা। সেই সঙ্গে ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরেও নিয়ে যায় তারা। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর এটিই ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা।

হামাসের হামলার জবাব দিতে এবং জিম্মিদের উদ্ধার করতে গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। প্রায় ১৫ মাস ধরে অভিযান চলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রশাসনের চাপের মুখে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। আগামী ১ মার্চ থেকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হওয়ার কথা। এ পর্যায়ে গাজায় স্থায়ীভাবে সংঘাত শেষ হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হবে। চুক্তির শর্ত অনুসারে, এ পর্যায়ে অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি দেবে হামাস এবং বিনিময়ে বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ১ হাজার জনকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল এবং উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। আর তৃতীয় পর্যায়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে।

এদিকে, ফিলিস্তিনি কারাবন্দিদের মুক্তি বিলম্বিত হওয়া নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, তার সুরাহা হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস। সশস্ত্র এ গোষ্ঠীটির কায়রো সফরে যাওয়া একটি প্রতিনিধিদল এ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মঙ্গলবার রাতে হামাসের দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, বন্দি বিনিময় নিয়ে দুই পক্ষের সমঝোতা হয়েছে। ফিলিস্তিনি এ স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি বলেছে, তাদের গাজাপ্রধান খলিল আল-হায়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিটি পর্ব, প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

হামাস কর্মকর্তা বাসেম নাইম বলেছেন, কারাবন্দিদের আটকে রেখে এ যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও গাজা থেকে সব ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর। ইসরায়েলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হামাস বলছে, গাজায় তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকতেই হবে এমন দাবি তারা করছে না। কিন্তু যারাই গাজার শাসন ক্ষমতায় আসুক না কেন, সে বিষয়টি তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই ঠিক করতে হবে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসন করে আসছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বুধবার ইসরায়েলের কাছে চার নিহত জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করেছে হামাস। সে ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহে আগের বিলম্বিত হওয়া বন্দিদের সঙ্গে আরও কয়েকশ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল। রয়টার্স বলছে, প্রথম ধাপে ৩৩ জিম্মির বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগারে আটক দুই হাজারের মতো ফিলিস্তিনি বন্দি ও কয়েদিদের মুক্তি পাওয়ার কথা। অন্যদিকে, গাজায় সংঘাত থামলেও অধিকৃত পশ্চিম তীরে অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। তাদের এই অভিযানে শিশু ও সাবেক বন্দিসহ অন্তত ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত