যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে নতুন এক প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ইবি-৫ ভিসার পরিবর্তে একটি গোল্ড কার্ড ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে এই গোল্ড কার্ড দিয়ে পাওয়া যাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বও। মঙ্গলবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, গোল্ড কার্ড ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী অধিবাসী হতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
ইউ.এস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ইবি-ফাইভ ইমিগ্রান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রাম নামক কর্মসূচিটি পরিচালনা করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি সংস্থা। ১৯৯০ সালে দেশটিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে চাঙা করার লক্ষ্যে কংগ্রেস এ কর্মসূচি চালু করেছিল। ট্রাম্প বলেন, ইবি-ফাইভের পরিবর্তে আমরা গোল্ড কার্ড বিক্রি করতে যাচ্ছি। এই নতুন গোল্ড কার্ডের মূল্য ধরা হয়েছে ৫০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ কোটি টাকার বেশি)। যা গ্রিন কার্ডের সুবিধার পাশাপাশি নাগরিকত্ব পাওয়ার পথও খুলে দেবে। গোল্ড কার্ড ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী অধিবাসী হতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন এই পরিকল্পনার বিস্তারিত জানানো হবে। নতুন এই পরিকল্পনায় রুশ ধনকুবেরাও এই কার্ডের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন কী না সে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত, হ্যাঁ। আমি কয়েকজন রুশ অলিগার্ককে চিনি যারা খুব ভালো মানুষ। নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক মঙ্গলবার ইবি-৫ প্রোগ্রামকে অর্থহীন, কাল্পনিক ও প্রতারণায় পূর্ণ অভিহিত করে বলেন, প্রেসিডেন্ট এই ত্রুটিপূর্ণ প্রকল্পটি বাতিল করে গোল্ড কার্ড চালু করতে চাইছেন। এই নতুন প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনিবন্ধিত অবৈধ অভিবাসীদের জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জারি করা একটি নির্দেশনায় এ তথ্য জানা গেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন সব অভিবাসন আইনের প্রয়োগ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় আমাদের দেশে কারা আছেন তা অবশ্যই আমাদের জানতে হবে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের কর-হ্রাস প্রস্তাবনার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। মঙ্গলবার রাতে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদন করে। হাউজ স্পিকার মাইক জনসন বলেন, আমেরিকা প্রথম নীতির বাস্তবায়নে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।
