নিজের প্রথম মেয়াদে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অমøমধুর সম্পর্কের অভিজ্ঞতা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প দ্রুতই নিজের চারপাশে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের ভিড় জমিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু মতপার্থক্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে জেনারেলদের সঙ্গে ট্রাম্পের সেই সম্পর্ক একসময় তিক্ততার দিকে চলে যায়। তাই দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েই পেন্টাগনের ওপর নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন তিনি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর ওপর দিয়ে রীতিমতো বরখাস্তের ঝড় বইয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। বরখাস্ত করেন পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল চার্লস কিউ ব্রাউন জুনিয়র, নৌবাহিনীর প্রধান কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রানচেত্তিসহ ছয় জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে। ট্রাম্পের নির্দেশে সেদিনই সংস্থাটির আরও ৫ হাজার ৪০০ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগেরবার পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে লড়াইয়ের ক্ষত থেকেই হয়তো ট্রাম্প এবার প্রতিরক্ষা দপ্তরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে এতটা উদ্যোগী হয়েছেন।
এ মেয়াদে ট্রাম্প নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের দিয়ে পেন্টাগনকে ঢেলে সাজাতে চাইছেন। এ কারণে সংস্থাটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টই পেন্টাগনের কমান্ডার ইন চিফ হওয়ায় পদাধিকারবলে ট্রাম্পের সেই ক্ষমতাও রয়েছে। আর সেটিকেই ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করছেন এ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। বিশ্লেষকরা বলছেন, বরখাস্ত হওয়া এসব শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা দক্ষতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য বরখাস্ত হননি। তাদের চাকরিচ্যুত করা এ ইঙ্গিতই দিচ্ছে যে, ট্রাম্পের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে থাকার মূল যোগ্যতা তার প্রতি প্রশ্নাতীত আনুগত্য। কিছুদিন আগে ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বলেছিলেন, তিনি বিমানবাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও নৌবাহিনীর শীর্ষ পদে পরিবর্তনের জন্য প্রার্থী খুঁজছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিচালনার অনুমতি পেতে এ তিনজনের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়।
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে শপথ গ্রহণের পর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জেমস ম্যাটিসকে নিজের প্রথম প্রতিরক্ষামন্ত্রী করেছিলেন ট্রাম্প। তার প্রশাসনের উচ্চপদে জন কেলি, জেমস ম্যাটিস, এইচ আর ম্যাকমাস্টারসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা দেখা গিয়েছিল। তবে বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে কেউই দীর্ঘ সময় ধরে থিতু হতে পারেননি।
এদিকে, সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সরকারিভাবে ব্যবহৃত গোপন যোগাযোগ ব্যবস্থায় যৌনতা নিয়ে আলোচনা করায় চাকরি হারাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক গোয়েন্দা। গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে তাদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এভাবে জাতীয় নিরাপত্তা প্রশাসনযন্ত্রের ব্যবহার বিশ্বাসের গুরুতর লঙ্ঘন। তাদের এ কাণ্ড পেশাদারত্বের মান এবং মৌলিক নীতিবিরুদ্ধ।
