শুধুই ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে ভাবছে না আফগানরা

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৫:২৬ এএম

২০২৩ সালের ৭ নভেম্বরের পর যতবার আফগানিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হবে, ঘুরে ফিরে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের নামটা আসবেই। আসাটাই স্বাভাবিক। সেদিন শারীরিক প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে ম্যাক্সওয়েল যে ইনিংসটা খেলেছিলেন, সেটা ক্রিকেট ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ব্যাটিং প্রদর্শনী। আজ লাহোরে, দুই দল মুখোমুখি হওয়ার আগে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনের অনেকটা জুড়ে উপস্থিত না থেকেও ছিলেন ম্যাক্সওয়েল। আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদি অবশ্য স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন, শুধু ম্যাক্সওয়েলের বিপক্ষে খেলছে না আফগানিস্তান, গোটা অস্ট্রেলিয়া দলটাই প্রতিপক্ষ। অন্যদিকে মারনাস লাবুশেন জানিয়েছেন, দর্শকদের চুপ করিয়ে দেবেন আজ।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠের দর্শকদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছিল আফগানিস্তান। আজও মাঠে আফগান ভক্তদের ঢল নামতে পারে। দর্শকদের সমর্থন বেশিরভাগটাই যদি প্রতিপক্ষের দিকে চলে যায় তাহলে খেলায় কেমন প্রভাব পড়বে? এমন প্রশ্নে লাবুশেনের উত্তর, ‘আসলে মাঠের খেলায় কী প্রভাব পড়বে তা বলা কঠিন। আমরা তো অবশ্যই চাইব দর্শকদের চুপ করিয়ে দিতে, আর তাদের হতাশ করেই বাড়ি পাঠাতে; তবে সেজন্য আমাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় স্থির থাকতে হবে, আর নিশ্চিত করতে হবে, আমাদের মনোযোগ যেন মাঠের খেলাতেই থাকে। আমরা খেলার জন্য তৈরি, আর পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমরা যেন সেখান থেকে বের হয়ে আসি, আর নিজেদের সেরাটা দিই।’

আফগানিস্তানে নারীদের খেলার অধিকার-সংক্রান্ত কারণে তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তাদের বিপক্ষেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে হচ্ছে, বিষয়টা কীভাবে দেখছেন লাবুশেন? তার উত্তর, ‘বেশ কৌতূহলী প্রশ্ন। এটা অবশ্যই একটা আইসিসি টুর্নামেন্ট, আর আমাদের এখানে খেলা পড়েছে আফগানিস্তানের সঙ্গে। ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো অসুবিধা নেই, আগামীকাল আফগানিস্তানের সঙ্গে খেলতে, তবে যদিও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অতীতে একটা অবস্থান ছিল। তবে আমরা শুধু আগামীকালকের ম্যাচেই মনোযোগ রাখছি।’

আফগান অধিনায়ক শাহিদিও শুধু ম্যাক্সওয়েল নয়, গোটা অস্ট্রেলিয়া দলকে নিয়ে সাজাচ্ছেন রণপরিকল্পনা, ‘আপনার কি মনে হয় আমরা শুধু ম্যাক্সওয়েলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি? কি মনে হয় ব্যাপারটা এ রকমই হবে? আমাদের অস্ট্রেলিয়া দলের সবাইকে নিয়ে পরিকল্পনা করা আছে, আমি জানি ২০২৩ বিশ্বকাপে সে খুবই ভালো খেলছে, তবে সেসব এখন ইতিহাস। এরপর আমরা তাদের টি-২০ বিশ্বকাপে হারিয়েছি। আমরা গোটা দল নিয়েই ভাবি, কোনো একজনকে হারাতে মাঠে আসি না। আমরা শুধু ম্যাক্সওয়েলের বিপক্ষে খেলছি না, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলছি।’

শাহিদির আশা, ভালো একটা ম্যাচ হবে আজ, ‘আশা করছি ভালো একটা ম্যাচ হবে, আর সবকিছু সহজ রাখার চেষ্টা করব, কী করলে সেমিফাইনালে খেলা যাবে সেসব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। আফগানিস্তানের মানুষ সবসময় আমাদের উৎসাহ দেয়, মাঠে প্রচুর আফগান সমর্থক ছিল, আমরা যেখানেই খেলি দর্শকদের সমর্থন পাই, দেশে টিভিতে মানুষ আমাদের খেলা দেখে। সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন মাঠে আসব, তখন ভালো একটা পরিকল্পনা নিয়ে আসব, আর কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।’

আফগানদের সামর্থ্য সম্পর্কে জানা আছে লাবুশেনের। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটসম্যান, ‘আমরা যখন ব্যাটিং করব তখন মাঝের ওভারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে হবে, ওদের স্পিনটা সামলাতে হবে, যে জায়গাটায় ওরা খুব ভালো। তাদের পেস বোলিং সবশেষ কয়েকটা ম্যাচে ভালো করেছে, নুর আহমেদ ভালো শুরু করেছে, গত রাতে (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে) শেষটা ওরা খুব ভালো করেছে। এরপর ওদের ব্যাটিংয়ের কথা যদি বলি, ওদের ভালো ব্যাটসম্যান আছে। সবশেষ যখন ওদের সঙ্গে খেলেছিলাম, ওদের টপ অর্ডার ভালো করেছিল, প্রায় ৩০০ রান করেছিল ওরা (২৯১)। এরপর ম্যাক্সওয়েল সেই অসাধারণ ইনিংসটা খেলল, আর আমাদের জিতিয়ে দিল। আমাদের একটাই লক্ষ্য, সামনে যা আসবে সেভাবেই খেলব।’

একদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিঃসন্দেহে সফলতম দল আর প্রতিপক্ষে প্রথমবারে মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সুযোগ পাওয়া একটা দল, যাদের দেশে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয় না। এমন দুটো দলের ভেতর তো তুলনাই হওয়ার কথা না। তবুও করতে হচ্ছে, কারণ দলটা আফগানিস্তান। ২০২৩ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে তারা হারাতে পারেনি অতিমানবীয় ইনিংস খেলা ম্যাক্সওয়েলের কারণে, তবে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঠিকই হারিয়ে দিয়েছে। তাই তো পরের আইসিসি আসরে মুখোমুখি হওয়ার আগে তাই তো সতর্কতা দুই তরফেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত